এরশাদ রানা (কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি):
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দেওয়ানী বণ্টন মামলায় আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও নিজের প্রাপ্য জমির দখল বুঝে নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন হাছান মিয়া। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমি পরিমাপ করে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিতে গেলে জেলা নাজির ও কোর্ট কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়নের ভিতরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হাছান মিয়া ওই গ্রামের মৃত হাজী তাজুল ইসলাম মেম্বারের ছেলে। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা দেওয়ানী বণ্টন মামলার মাধ্যমে আদালত তাঁর প্রাপ্য জমির অংশ নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে তিনি ওই জমির দখল পাচ্ছেন না।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৩ সালে হাছান মিয়া চৌদ্দগ্রাম সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি বণ্টন মামলা করেন। মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ আদালত একতরফা রায় ও প্রাথমিক ডিক্রি দেন। রায়ে বাদীপক্ষকে নালিশি তফসিলভুক্ত সম্পত্তির ৩৩ দশমিক ৫২ শতক জমিতে ছাহাম (অংশ) দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে ওই অংশের জমি সরেজমিনে পরিমাপ করে ছাহাম, চিটা, ফিল্ডবুক, প্রতিবেদন ও ম্যাপ প্রস্তুতের জন্য কমিশনার নিয়োগের নির্দেশ দেন আদালত। কমিশনার সরেজমিনে জমি পরিমাপ করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। পরে ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি না থাকায় আদালত তা গ্রহণ করেন এবং মামলায় চূড়ান্ত ডিক্রি জারি করা হয়।
মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমি পরিমাপ করে হাছান মিয়ার প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিতে জেলা জজ আদালত, কুমিল্লার জেলা নাজির মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী, কোর্ট কমিশনার ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ভিতরচর গ্রামের মোসলেম মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন, তাঁর ছোট ভাই আমান, নুরুল হকের ছেলে মিজান ও শাহাদাত তাঁদের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হাছান মিয়া বলেন, ‘আদালতের রায় ও চূড়ান্ত ডিক্রিতে আমার প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও জমির দখল বুঝে নিতে পারছি না। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে গিয়ে নাজির ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বাধার মুখে পড়েছেন। আমি দ্রুত আদালতের ডিক্রি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমার প্রাপ্য জমি বুঝে নিতে চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জামাল হোসেন বলেন, ‘আদালতের এই রায় আমরা মানি না। জমি বুঝিয়ে দিতে হলে সর্বোচ্চ প্রশাসন, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ থাকতে হবে। তা ছাড়া কেউ জমি বুঝিয়ে দিতে পারবে না।’
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা নাজির মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমি পরিমাপ করে হাছান মিয়ার প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দিতে আমি সহ কোর্ট কমিশনার ইকবাল হোসেন সরজমিনে গেলে ভিতরচর গ্রামের মোসলেম মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন,তাঁর ছোট ভাই আমান, নুরুল হকের ছেলে মিজান ও শাহাদাত কাজে বাধা দেন। তারা ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ ছাড়া জমি বুঝিয়ে দিতে দিবে না। পরে সংঘাতের আশঙ্কায় আমরা চলে আসি।

