কামরুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফে র্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযানে ২৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ এবং একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানাচ্ছে, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সন্ত্রাস ও মাদক দমনে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র্যাব কাজ করছে। বিশেষ করে যুব সমাজকে মাদকের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় দেশব্যাপী নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
র্যাব-১৫ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিপিসি-১ (টেকনাফ) এর একটি আভিযানিক দল টেকনাফের শাপলা চত্বরে অবস্থানকালে গোপন খবর পায়, এক মাদক ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে যাবে।
সংবাদের সত্যতা যাচাই ও ইয়াবা আটক করতে সকাল প্রায় ৭টা ৫৫ মিনিটে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কচ্ছপিয়া এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইসমাইল স্টোরের সামনে একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে র্যাবের সদস্যরা।
সকাল আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে সন্দেহভাজন একটি সিএনজি অটোরিকশাকে থামিয়ে চালককে জিজ্ঞাসা ও তল্লাশি করা হয়। এ সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার পেট ও দুই পায়ে বিশেষ কৌশলে স্কচটেপে পেঁচানো ৬টি প্যাকেট উদ্ধার হয়। ওই প্যাকেটগুলো থেকে ১২০টি বায়ুরোধক নীল জিপার পলিব্যাগের মধ্যে মোট ২৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আরোও পড়ুন
| টেকনাফে পিকআপের চাপায় গুরুতর আহত ৯ বছরের শিশুকন্যা, চালক পলাতক |
এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি হলেন মো. আব্দুল হোসেন (৫৩)। তিনি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গুদারবিল এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আব্দুল হোসেন জানিয়েছেন যে, ”তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী মিয়ানমার এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন।”
অভিযানে উদ্ধার হওয়া ২৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং অন্যান্য আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ জানিয়েছে, ”মাদক চোরাচালান ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গোয়েন্দা অভিযান ভবিষ্যতেও চালানো হবে এবং সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে কঠোর অবস্থান রাখা হবে।”

