বাকেরগঞ্জে সংঘর্ষে ৯ জন আহত, বসতঘর অগ্নিদগ্ধ

বাকেরগঞ্জে সংঘর্ষে ৯ জন আহত, বসতঘর অগ্নিদগ্ধ বাকেরগঞ্জে সংঘর্ষে ৯ জন আহত, বসতঘর অগ্নিদগ্ধ

এম এইচ কামাল, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের বাকেরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার কারণে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় দুলাল মোল্লা (৬৫) এর একটি আবাসিক ঘরে আগুন লাগানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দুলাল মোল্লা পরিবার দাবি করছে যে, ফারুক সিকদার (৬০) ও তার ছেলে জামাল সিকদার (৪০) কামাল সিকদার (৩০) তাদের সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে দুলাল মোল্লার ঘরে আগুন ধরিয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। দুলাল মোল্লা মৃত চান্দু মোল্লার সন্তান। ফারুক সিকদার তাদের প্রতিবেশী।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, দাওকাঠী গ্রামের দুলাল মোল্লার ছেলে রাকিব মোল্লা, রবিউল মোল্লা এবং বেল্লাল ফকিরের ছেলে হাসিব ফকির ২ জুন রাতে একই গ্রামের মোঃ জামাল সিকদারের জামাতা মোঃ চয়ন খানকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বর্তমানে গুরুতর আহত চয়ন খান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন। এ ঘটনায় ৩ জুন রাতে থানায় একটি মামলা হয়। গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে দাওকাঠী মাদারিয়া পাড় সড়কে মানববন্ধন পালন করা হয়।

এর ফলে দুলাল মোল্লার পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে আবির খান (২৫) ও আরিফুল খান (৪০) নামের দুই ব্যক্তিকে কোপ দিয়ে আহত করেছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে অভিযোগ করা হয় যে ফারুক সিকদার ও জামাল সিকদার তাদের লোকজনকে নিয়ে দুলাল মোল্লার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ অগ্নিকাণ্ডের ফলে নগদ টাকা, জমির দলিল ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার সম্পত্তি পুড়ে গেছে বলছেন দুলাল মোল্লার পরিবার।

দুলাল মোল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, তারা যখন তাদের বসতঘর ভাঙার চেষ্টা করে তখন আমাদের পরিবারের সাতজনকে কোপ দেয়, এবং পরে আমাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন আমরা চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে আমাদের বাহিরে বের করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছি। ঘণ্টা খানেক পরে জানতে পারি যে বাকেরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এই বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক সিকদার ও জামাল সিকদার বলেন, দুলাল মোল্লার ঘরের অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের কিছু জানাশোনা নেই। তবে মানববন্ধনের পর বাড়ি ফিরতে গিয়েছিলাম, সেই সময় দুলাল মোল্লা এবং তার পুত্ররা আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়, যাতে আবির খান (২৫) ও আরিফুল খান (৪০) গুরুতর আহত হয়। তারা বর্তমানে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন বলেন, প্রথমিক তদন্তে বোঝা হয়েছে যে, স্থানীয় উৎসুক জনগণ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাথে জড়িত হতে পারে, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও গতকালের আবির খান ও আরিফুল খানের ওপর হামলার ঘটনায় ছয়জনকে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের আজ শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।