মো. আল হাসান, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ (VGF) চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
উপকারভোগীদের প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি। খোদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই এ অনিয়ম চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ক্ষেতলাল উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৫৬৮টি পরিবারের জন্য মোট ৬৫.৭৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বড়তারা ইউনিয়নের ১ হাজার ৫৭৮টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ আসে ১৫.৭৮০ মেট্রিক টন চাল।
নিয়মানুযায়ী ডিজিটাল স্কেলে মেপে প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায়, ডিজিটাল স্কেলের পরিবর্তে প্লাস্টিকের বালতি দিয়ে অনুমাননির্ভরভাবে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।
সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত চাল পুনরায় ডিজিটাল মেশিনে ওজন করে দেখা যায়—কোনো প্যাকেটে ৮.৫৫০ কেজি, কোনো প্যাকেটে ৮.৮০০ কেজি, আবার কোনো প্যাকেটে ৯.১০০ কেজি চাল রয়েছে। অর্থাৎ মাথাপিছু ১ থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে। (এ সংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।)
ওজনে এই কারচুপির সুযোগে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। সুবিধাভোগীরা চাল নিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা ওজনে কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে মাত্র ২০০ টাকায় পুরো প্যাকেটটি কিনে নিচ্ছেন।
নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণস্থলে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং একজন ট্যাগ অফিসারের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে তাদের কাউকেই সক্রিয়ভাবে পাওয়া যায়নি। কেবল প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের নির্দেশনায় গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল।
