সাংবাদিককে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সাংবাদিককে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুরের মধুখালীতে সাংবাদিক এনামুল খন্দকারকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান পলাশের বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলে মধুখালী পৌরসভার মুজাফফর ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী এনামুল খন্দকার মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের উপজেলা প্রতিনিধি। অভিযুক্ত মেহেদী হাসান পলাশ মধুখালী পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে মোটরসাইকেলে তেল নিতে মধুখালী পৌরসভার মুজাফফর ফিলিং স্টেশনে অবস্থান করছিলেন এনামুল। এ সময় বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান পলাশ তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে এসে এনামুলের ওপর হামলা চালান। এক পর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়ি কোপ দেন। পরে হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে চাবি ছিনিয়ে নেয়।

এ সময় এনামুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর শেখ জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পলাশের হাতে ধারালো অস্ত্র দেখতে পান এবং এনামুলের ওপর হামলার ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন।

মধুখালী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারী পলাশকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মধুখালী থানাকে অবহিত করা হয়েছে।”

আহত সাংবাদিক এনামুল খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান পলাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *