সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা চাপের মধ্যে রয়েছে

সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা চাপের মধ্যে রয়েছে

বাংলাদেশের অর্থনীতি এমন একটা জায়গায় রয়েছে, যেটার একটা রূপান্তর প্রয়োজন উল্লেখ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা চাপের মধ্যে রয়েছে। এই অস্থিরতা গত কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর এফডিসি মিলনায়তনে ‘জনপ্রত্যাশা পূরণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বহুমুখী চাপের মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব পরিসর, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, মুদ্রা খাতে ঝুঁকি, উচ্চ ঋণভার, জ্বালানি খাতে চাপ, রূপান্তরকালীন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চাপ এ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, সামনে অর্থনীতির একটা বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে এলডিসি থেকে উত্তরণ। এটা একটা দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি হলেও উত্তরণ পরবর্তী সময়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সার্বিক পরিস্থিতিতে বর্তমানে যে দল সরকার গঠন করেছে, তাদের সামনে বিরাট কর্মজজ্ঞ বা কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে। নবনির্বাচিত সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদার, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এই সরকার অর্থনীতিকে কীভাবে ঢেলে সাজাবে, কী কী লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে; সে বিষয়ে একটা পথরেখা দিয়েছে। তারা বলছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন দেখতে চায়, কর জিডিপির হার বাড়াতে চায়, বিনিয়োগ বাড়াতে চায়, সামাজিক সুরক্ষার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড প্রদান করবে। এর কিছু কিছু তারা শুরু করেছে।

সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত মুদ্রানীতি ও রাজস্ব শৃঙ্খলা জরুরি বলে তিনি জোর দেন। তার মতে, সুদের হার নীতি, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং বিচক্ষণ সরকারি ব্যয়-এই তিনটি বিষয়কে একযোগে কাজ করতে হবে; যাতে চাহিদাজনিত চাপ নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা স্থিতিশীল রাখা যায়।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি ও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক দৌলত আখতার মালা, সাংবাদিক জাকির হোসেন, সাংবাদিক রিজভী নেওয়াজ ও সাংবাদিক রেফাত উল্লাহ মীরাব।

প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *