আল মুনতাকিম: বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার উন্নয়নকে দ্রুততর করার উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাদের, কর্মচারীদের এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ মে) দুপুর ১২ টার দিকে পৌরসভা অফিসের সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। শেরপুর পৌর প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমুর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৫ আসনের সদস্য আলহাজ্ব গোলাম মো. সিরাজ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ বলেন, পৌরসভাকে একটি উন্নত ও নাগরিকদের জন্য সুসঙ্গত রূপে গড়ে তুলতে আমাদের যৌক্তিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। উন্নয়নের স্বার্থে কোন ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ সহ্য করা হবে না। মতবিনিময় সভায় শেরপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল ওয়াদুদ শহরের অবৈধ স্থাপনাগুলি ও ফুটপাত দখল নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাধারণ জনগণের চলাচলের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরেই পৌর এলাকার সকল অবৈধ দখল এবং অবৈধ স্থাপনাগুলি বিনাশে অভিযান শুরু হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বগুড়া জেলা বিএনপির প্রাক্তন উপদেষ্টা ও প্রাক্তন পৌর মেয়র জানে আলম খোকা, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু এবং প্রাক্তন পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি স্বাধীন কুমার কুন্ডু উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদ জুয়েল,…
Author: দৈনিক নবদিগন্ত
মোঃ আল মুনতাকিম: জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শিবগঞ্জ অঞ্চলে একটি অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ৩১ কেজি ওজনের একটি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের মতে, এই মূর্তিটি ভারত পাচারের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে শিবগঞ্জের গড়মহাস্থান দক্ষিণপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের নাম হলো- শিবগঞ্জের গড়মহাস্থান দক্ষিণপাড়ার ৫৪ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম এবং বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা পশ্চিমপাড়ার ৩২ বছর বয়সী নাহিদুর রহমান। ডিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোপন খবর পাওয়ার পর জানা যায় যে, শিবগঞ্জের গড়মহাস্থান এলাকায় একটি বাড়িতে একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি রাখা আছে। এরপর জেলা গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এই সময় একটি শয়নকক্ষের খাটের উপর থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্য মতে, উদ্ধার হওয়া বিষ্ণুমূর্তিটির মাপ হলো ৩০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য, ১৪ ইঞ্চি প্রস্থ এবং ৩০ কেজি ৭০০ গ্রাম ওজন। এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার জানান, গোপন সংবাদ অনুসারে অভিযান চালিয়ে কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় জানা গেছে, এটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে ছিল। এই ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
এসকে এম মহসিন রেজা, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ বাঙালি সমাজে মে মাস বোঝায় মধুমাস, কিন্তু খুলনা জেলার কয়রা এবং উপকূলীয় জনগণের জন্য এটি একটি ভয়ের নাম। ‘আইলা’, ‘আম্ফান’ এবং ‘রেমাল’—গত বছরের ভয়াবহ ঘটনাগুলি মনে করিয়ে দেয় যে, মে মাস শুরু হলেই আকাশের গর্জনে চমকে ওঠে উপকূলের প্রতিটি বাড়ি। হাজার হাজার পরিবার ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর নদী ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে এবং প্রকৃতির চ্যালেঞ্জে টিকে থাকার জন্য প্রস্তুতির কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে বুধবার (১৩ মে) সকালে কয়রা উপজেলা প্রশাসন একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ সভা আয়োজন করে। উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভার মাধ্যমে উপকূলের মানুষের ভয়াবহ অবস্থা এবং প্রশাসনের সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। জাপানি উন্নয়ন সংস্থা ‘শাপলা নীড়’-এর সহযোগিতায় এবং বেসরকারি সংস্থা ‘জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস)’-এর সহায়তায় আয়োজন করা সভায় বক্তারা উপকূলের কঠিন পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, মে-জুন মাস আসলে কয়রা অঞ্চলের মানুষের চোখে নিদ্রা থাকে না। বাঁধ ভেঙে লোনা জল গৃহে ঢুকে পড়ার আতঙ্ক যেন সবসময় জাগ্রত থাকে। জীবন রক্ষার এই যুদ্ধে এবারও ‘সমন্বিত আগাম প্রস্তুতি’কে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস। বক্তব্যে তিনি বলেন: “দুর্যোগ অবশ্যম্ভাবী, তবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্ষয়ক্ষতির শূন্যস্থান রাখা। মাঠ পর্যায়ের সাইক্লোন শেল্টারগুলোকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখতে হবে এবং সতর্কবার্তা যেন প্রতিটি দরজায় পৌঁছায় সেদিকে নজর দিতে হবে। দুর্যোগের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকরা একযোগে কাজ করতে হবে।” প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল জাবিরের পরিচালনায় সভায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ রিয়াদ রূপগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাসের ইউসুফ আলী নামের একটি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। মৃত শিশুটি ইউসুফ আলী যুব অধিকার কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাঞ্চন এলাকার কাউসার আলীর ছেলে। শিশুর বাবা কাউসার আলী জানিয়েছেন, ৩০ এপ্রিল রূপগঞ্জের কাঞ্চন এলাকায় ইউসুফ আলীর হামের প্রথম টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ৯ মে শিশুটি হামের শিকার হয়। অবস্থার শরীর খারাপ হলে তাকে দ্রুত মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসার সময় বুধবার দুপুরে তার মৃত্যু ঘটে। এর আগে ৯ মে রূপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের বৌরারটেক এলাকার ১০ মাসের আরেকটি শিশু তরিকুর ইসলামও হামের কারণ হয়ে মারা গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত রূপগঞ্জে হাম রোগে মোট চারটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা স্থানীয় নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মোঃ সাইফুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে সদর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের দাবি করা অবৈধ কর্মচারী জাবেদের বাসায় বিয়ের দাবিতে কলেজ শিক্ষার্থী আশা আক্তারের অনশনের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১৩ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জামাদার পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, আশা আক্তার (১৮) দীর্ঘ সময় ধরে জাবেদের সঙ্গে প্রেম সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তাদের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি জাবেদ বিয়ের ব্যাপারে অসহযোগিতা শুরু করলে ক্ষুব্ধ হয়ে আশা আক্তার তার বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন করতে শুরু করেন। অনশনরত আশা আক্তার অভিযোগ করেন, “জাবেদ আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহুদিন ধরে সম্পর্ক রেখেছে। কিন্তু এখন সে আমাকে উল্টো ফেরাতে চাইছে। বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানে থেকে যাব।” অভিযুক্ত জাবেদ অষ্টগ্রাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের জামাদার পাড়া এলাকায় খোকন মিয়ার ছেলে। অপরদিকে, অভিযোগকারী কলেজছাত্রী আশা আক্তার একই ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার ফরিদ মিয়ার নাতনি। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণ জাবেদের বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করে। ঘটনার বিষয়ে এলাকায় যথেষ্ট আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বিষয়টির সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, জাবেদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি পরিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। জাবেদের মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, উল্লেখযোগ্য যে, জাবেদ অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘকাল ধরে কর্মরত থাকলেও, তার নিয়োগের বৈধতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ রয়েছে। অষ্টগ্রাম থানার অফিসার…
মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার: রংপুরে প্রায় ৩১ কোটি টাকা খরচে নির্মিত ১০০ শয্যার আধুনিক শিশু হাসপাতালটি ছয় বছর পেরিয়েও সম্পূর্ণরূপে চালু হয়নি। অত্যাধুনিক অবকাঠামো ও বিশালমূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে হাসপাতালটি কার্যত অচল রয়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের লক্ষাধিক শিশুর বিশেষায়িত চিকিৎসার আশা এখনও পূর্ণ হয়নি। রংপুর শহরের পুরাতন সদর হাসপাতাল এলাকার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ ২০২০ সালে শেষ হয়। বহুতল ভবনটিতে শিশুর আধুনিক চিকিৎসার জন্য আইসিইউ, বিশেষ ওয়ার্ড, চিকিৎসক এবং কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরি এবং অন্যান্য অপরিহার্য সুবিধা থাকার পরেও, এটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালে হাসপাতালে সাময়িকভাবে ‘করোনা ডেডিকেটেড স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সময়ে ১৫ শয্যার আইসিইউসহ প্রায় ৩০টি শয্যায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হাসপাতালের কার্যক্রম আবারও থেমে যায়। গত চার বছর ধরে ভবনটি প্রায় পরিত্যক্ত ধারণায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঝকঝকে আধুনিক ভবনের ভেতরে রোগীদের কোন আড্ডা কিংবা চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোন কাজ করছে না। হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে পড়ে থাকা অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি দীর্ঘ সময় ধরে অচল ও ব্যবহার না হওয়ার কারণে ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে আইসিইউ ইউনিটের দামি সরঞ্জামগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটি চালু করতে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স, প্রযুক্তিবিদ, আয়া এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ এবং প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠতে পারেনি, যা হাসপাতালটি চালুর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি বর্তমানে সমস্ত কার্যক্রম শুরু হলে হাসপাতালটিকে সম্পূর্ণরূপে সচল করতে অন্তত এক বছর লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিমত। রংপুর বিভাগের স্বাস্থ্য…
মোঃ রিয়াদ, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভূলতা গাউছিয়া অঞ্চলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পায়ের পথ ও সড়ক দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসন বছরের পর বছর ধরে অভিযান চালালেও প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী সমাধান আসছে না। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় সতেরো বছর ধরে এই সমস্যা চলমান রয়েছে। জুলাই ২০২৫ এবং মার্চ ২০২৬-এ একাধিক অভিযান চালিয়ে সড়কের দুই ধারে থাকা অবৈধ দোকানপাট, হকার স্ট্যান্ড এবং অস্থায়ী স্থাপনা সরানো হয়েছে। অভিযানের সময় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আশা দেখা দিলেও, অল্প কিছুদিন পরেই পূর্বের পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার হয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে অথবা দিনের ব্যস্ত সময়ে দোকান আবারও বসাতে শুরু করা হয়, ফলে মহাসড়কে যানজট, বিশৃঙ্খলা এবং ভোগান্তি একটি দৈনন্দিন দৃশ্য হয়ে উঠেছে। মূল আরেকটি বিবৃতিতে দেখা যায়, ভূলতা বাসস্ট্যান্ড থেকে গাউছিয়া মার্কেট পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য ঝরোকা দোকান, ফলের স্টল, পোশাকের দোকান, খাবারের অস্থায়ী স্থান এবং বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করার ব্যবস্থা রয়েছে। ফুটপাত সম্পূর্ণরূপে দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এর ফলে নিয়মিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে নারীরা, শিশুরা এবং বয়স্করা বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় জনসাধারণের মতে, সকালে অফিসগামী লোকজন এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। সামান্য দূরত্ব পার করা যাতে অনেক সময় লেগে যায়। যানজটের কারণে অ্যাম্বুল্যান্স এবং জরুরি গাড়িগুলিও আটকে পড়ছে। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যদি প্রশাসন সত্যিই কঠোর হয়, তবে সতেরো বছরেও দখলমুক্ত করা কেন সম্ভব হচ্ছে না? এলাকাবাসীর অভিযোগ, হকারদের জন্য ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করলেও কোনও সমাধান নয়। সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম কমে গেলে আবারও আগের অবস্থায় হকার বসে যেতে থাকে। ফলে স্থায়ী নজরদারির অভাবে পুরো পরিস্থিতি আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সচেতন মহলের ধারণা, শুধুমাত্র উচ্ছেদ…
মালিকুজ্জামান কাকা: যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভা একটি আধুনিক, পরিবেশে উপযোগী এবং উন্নয়নের আদর্শ নগরীতে রূপান্তরের পথে রয়েছে। এ লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে একটি রূপসী পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে নেয়া এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন ক্ষেত্রের জন্য নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঝিকরগাছা পৌরসভার সমগ্র অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে, দীর্ঘমেয়াদে পৌরসভার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে পর্যটন খাত, বিশেষত ফুল পর্যটন কেন্দ্রের কারণে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পৌরের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সিআরএপি বিষয়ক একটি দীর্ঘ দিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ। এই কর্মশালায় ঝিকরগাছা পৌরসভার উদ্যোগে নানা সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার হাজরা এবং সহকারী প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী সরদার। বক্তব্য রাখেন, পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য এবং ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ জালাল আলম, উপজেলা প্রকৌশলী সায়ফুল ইসলাম মোল্লা, সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম রাকিব, প্রাথমিক…
মোঃ রেজাউল করিম, জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর: মাদারীপুর জেলার একটি বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্লানেট হাসপাতালের মালিক আলহাজ্ব লোকমান মোল্লা স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত এবং সম্মানজনক ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে, তিনি ব্যবসার পাশাপাশি মানবসেবামূলক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে আসছেন। তিনি গারিব, অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে থেকে নিয়মিত সাহায্য করে আসছেন। বিশেষ করে বিনামূল্যে চোখের পরীক্ষা, ছানি অপারেশনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে তার অবদান যাতে স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এ ছাড়াও, তিনি শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমেও নিয়মিত সহযোগিতা প্রদানের জন্য পরিচিত। স্থানীয় জনগণের মতে, আলহাজ্ব লোকমান মোল্লা একজন মানবিক ও সদালাপী ব্যক্তি হিসেবে সবসময় মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ান। তার এসব মানবিক উদ্যোগ সমাজের মধ্যে ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যাংকিং খাতে তিনি নিয়মিত লেনদেন করে থাকেন। ব্যবসার অব্যাহত গতিশীলতার কারণে কখনো কখনো আর্থিক চাপ বা পরিস্থিতির পরিবর্তন থাকা সত্ত্বেও তিনি ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং লেনদেন অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। এটি একটি চলমান ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার অংশ বলেই অনেকের দৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয়। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তার দায়িত্ব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এবং সমাজসেবা ক্ষেত্রেও তিনি যথোপযুক্তভাবে সক্রিয়। এজন্য, তার কার্যক্রমগুলোকে এককভাবে না দেখে সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সার্বিকভাবে, আলহাজ্ব লোকমান মোল্লা একজন বাস্তব জীবনের ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে মাদারীপুরে সুপরিচিত। তার দীর্ঘকালীন মানবিক উদ্যোগ এবং সামাজিক অবদান তাকে স্থানীয় মানুষের কাছে একটি সম্মানজনক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পলাশ প্রতিনিধি (নরসিংদী): নরসিংদীর পলাশ এলাকায় পুলিশ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের সঙ্গে আটক করেছে। ১৩ মে ২০২৬, বুধবার সকালে উপজেলার চরসিন্দুর অঞ্চল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পলাশ থানার পুলিশ। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে, পলাশ নতুন বাজার গ্রামের আব্দুর রশীদের পুত্র কামরুল ইসলাম (২৮), চরসিন্দুর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার মৃত রিপন মিয়ের ছেলে রফিকুল ইসলাম পাশা (২৩) এবং একই গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মৃত আবু সাঈদের পুত্র শরীফুল ইসলাম (৩৫)। পলাশ থানার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে আটটায় গোপন খবরের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল চরসিন্দুর ইউনিয়নের চরসিন্দুর গ্রামের মধ্যপাড়া সড়কে অভিযান শুরু করে। পরে পুলিশ আসে তা বুঝতে পেরে কামরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম পাশা এবং শরীফুল ইসলাম নামে তিন মাদক ব্যবসায়ী পালানোর চেষ্টা করে, কিন্তু তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি করার ফলস্বরূপ প্যান্টের পকেট থেকে ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পলিথিনে উদ্ধার করা হয়। পলাশ থানার এসআই ইউসুফ আলী খান জানান, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে চরসিন্দুরের বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রিতে জড়িত থেকে যুব সমাজের ক্ষয়িষ্ণু দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে পলাশ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের নরসিংদী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
