মনিরুল ইসলাম ডাবলু, নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় একই রাতে পৃথক দুটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় বসতবাড়ি ও গোয়ালঘর পুড়ে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপর ঘটনায় একটি মাইক্রোবাসে পূর্ব বিরধের জেরে দুর্বৃত্তের আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টা ৪৭ মিনিটে নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় মো. আদম আলীর বসতবাড়ি ও গোয়ালঘরে আগুন লাগে। আগুনে চারচালা টিনের ঘর ও গোয়ালঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া গোয়ালঘরে থাকা দুটি গরু ও দুটি ছাগল পুড়ে মারা যায়। এতে আনুমানিক ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও নলডাঙ্গা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কৃষকের ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল এমরান খাঁন, এসময় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চাউল, ডাউল, তেলসহ বস্ত্র বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন,অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নগদ অর্থ ও ২ থেকে ৩ বান্ডিল ঢেউটিনবিতরণ করা হবে।
এর আগে একই রাতে রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের দুর্লভপুর গ্রামে দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হাসান আল জামানের বাড়ির উঠানে রাখা ব্যক্তিগত মাইক্রোবাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাসে আগুন দেন। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এতে মাইক্রোবাসটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবিষয়ে আইনগত সহায়তা নিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।
নলডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ নূরে আলম জানিয়েছে, বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ পাঠানো হয়েছে। একই ইউনিয়নে দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হাসান আল জামানের বাড়ির উঠানে রাখা ব্যক্তিগত মাইক্রোবাসে দূর্বৃত্তের দেয়া আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, উভয় ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

