মো: হাবিবুর রহমান, উপজেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর এক ছাত্রী সিএনজি চালকের দ্বারা যৌন নির্যাতনের এবং অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ বাজার উত্তাল হয়ে উঠেছে।
২৫ জুন (বৃহস্পতিবার) সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এই কারণে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যানজট সৃষ্টি হয় এবং সকল প্রকার যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২৪ জুন ২০২৬ (বুধবার) দুপুরের alrededor ১:১০ মিনিটে বিদ্যালয় শেষ হওয়ার পর, প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে অভিরুচি দোকানের সামনে সিএনজি স্টেশনে বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিল ষষ্ঠ শ্রেণীর যমুনা শাখার ছাত্রী স্নেহা রানী দাস (১১)। একটি সিএনজি আসলে সে তাতে উঠে বসে। এরপর অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা যখন ওই গাড়িতে উঠতে চেষ্টা করে, তখন অজ্ঞাতনামা সিএনজি চালক তাদের না নিয়ে শুধুমাত্র স্নেহা রানী দাসকে দ্রুত গাড়িতে নিয়ে চলে যায়।
ভিকটিম জানায়, গাড়ি চালানোর সময় অজ্ঞাতনামা চালক তাকে নানা ভাবে প্রলোভন ও কুপ্রস্তাব দিয়ে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। সে ভয়ে গাড়ি থামাতে বললেও চালক থামেনি। এক পর্যায়ে গাড়িটি চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজারের সমতা হলের সামনে আসলে সে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফ দেয় নিজের জীবন ও সম্মান রক্ষার্থে। পাকা সড়কে পড়ে গিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও রক্তাক্ত হয়। এই সময়ে অভিযুক্ত চালক গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহত ছাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভিকটিমের বাবা সুমন চন্দ্র দাস নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার মেয়েকে একা পেয়ে ঘাতক সিএনজি ড্রাইভার অপহরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে। মেয়েটি বুদ্ধিমত্তা না দেখালে তার বড় ক্ষতি হতে পারত। সে বর্তমানে গুরুতর আহত। আমি ঘটনার পর চন্দ্রগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”
থানায় অভিযোগ দায়ের করার পরেও যেন কোন কার্যকর কার্যক্রম না নেওয়ার কারণে আজ শিক্ষকেরা ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে।
মানববন্ধনে সমর্থন জানান বক্তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব সিরাজুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা। বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যদি আমাদের শিশুরা স্কুলে আসার পথে এমন বখাটেদের শিকার হয়, তাহলে তাদের নিরাপত্তা কোথায়? তারা অবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে অজ্ঞাতনামা চালককে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধনের খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মোহাম্মদ মোরশেদ আলম দ্রুত পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি উত্তেজিত শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, অপরাধীকে ধরার জন্য পুলিশ কাজ করছে। দ্রুততার সাথে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে ওসির জোরালো আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এই ঘটনার কারণে চন্দ্রগঞ্জ এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয়রা স্কুল-কলেজের ছুটির সময় সিএনজি স্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

