শেরপুরে খন্দকার টোলা সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে ৫০ গ্রামের মানুষ

শেরপুরে খন্দকার টোলা সড়ক বেহাল, দুর্ভোগে ৫০ গ্রামের মানুষ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি, মোঃ আল মুনতাকিম:

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ খন্দকার টোলা সড়কটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে। সড়কের পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খন্দকার টোলা, সাধুবাড়ী, মামুরশাহী, আয়রা, ভায়রা ও উচড়ংসহ প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ এই সড়ক। চারটি ইউনিয়নের বিপুল জনগোষ্ঠী প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে সড়কজুড়ে নোংরা পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই পানি আশপাশের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে ধুলাবালু এবং বর্ষায় কাদা-পানির মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

অটোরিকশা চালকরা বলেন, ভাঙা রাস্তার কারণে তাদের আয় কমে যাচ্ছে এবং যানবাহনের যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। যাত্রীরাও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন, অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এই সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঐতিহ্যবাহী খেরুয়া মসজিদে প্রতিদিন দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা এলেও সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন, যা স্থানীয় পর্যটনেও প্রভাব ফেলছে।

এদিকে সেরুয়া বটতলা থেকে ফুলতলা পর্যন্ত সংযোগ সড়কটিও একইভাবে ভাঙাচোরা ও ড্রেনেজ সংকটে পড়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, বিষয়টি বারবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও বরাদ্দের অভাবে কাজ শুরু হয়নি। উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ বলেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।