আটোয়ারীতে পেট্রোল পাম্পে অনিয়মের অভিযোগ, কার্ডধারীরা বঞ্চিত

আটোয়ারীতে পেট্রোল পাম্পে অনিয়মের অভিযোগ, কার্ডধারীরা বঞ্চিত

মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:

পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভাধীন আটোয়ারী উপজেলার শুভেচ্ছা পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফুয়েল কার্ড থাকা সত্ত্বেও অনেক মোটরসাইকেল আরোহী তেল পাচ্ছেন না, অন্যদিকে কার্ডবিহীনদের অগ্রাধিকার দিয়ে পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পের ম্যানেজার মানিক দক্ষিণ বলরামপুর ও জলাপাড়া এলাকার মোটরসাইকেল চালকদের ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল দিচ্ছেন। অপরদিকে পশ্চিম সাতখামার, দক্ষিণ সাতখামার, মাষ্টারপাড়া ও ভূজারীপাড়ার অনেক বাইকার বৈধ ফুয়েল কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ম্যানেজারের স্বজনপ্রীতির কারণেই এই বৈষম্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ম্যানেজারের ঘনিষ্ঠরা অন্যের ফুয়েল কার্ড ব্যবহার করে তেল নিচ্ছেন। এমনকি একই কার্ডে দিনে একাধিকবার তেল দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কার্ডে নতুন তারিখ ও স্বাক্ষর দেওয়ার ভান করে নিয়ম ভঙ্গ করা হচ্ছে। তারা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলে এসব অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ মিলবে। বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপা মনি দেবী ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইসেন্স ও ফুয়েল কার্ডবিহীন কয়েকটি যানবাহনকে জরিমানা করেন। তবে তিনি চলে যাওয়ার পরপরই পুনরায় আগের মতো অনিয়ম শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার পর তেল বিক্রি বন্ধ থাকার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পরও কিছু সময় তেল সরবরাহ করা হয়।

এছাড়া দুপুরে তেল সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও কিছুক্ষণ পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার নিজেই ১ হাজার ৫০০ টাকার তেল নেন। এ সময় সাধারণ গ্রাহকদের সারাদিনে মাত্র ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন উপস্থিতরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় ফুয়েল কার্ডধারী বাইকাররা। তাদের অভিযোগ, স্বজনপ্রীতির কারণে আমরা বৈধ কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পাচ্ছি না, অথচ কার্ডবিহীনদের সহজেই তেল দেওয়া হচ্ছে।” পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন সংবাদকর্মী ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় পাম্পের অফিস কক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার দুঃখ প্রকাশ করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।