মালিকুজ্জামান কাকাঃ
যশোর শহরের রায়পাড়া আবার মাদকপল্লীতে পরিণত হয়েছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে নিষিদ্ধ মাদকের সামগ্রী ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।
রায়পাড়া এক সময় সারা দেশে মাদক স্বর্গ হিসাবে পরিচিত ছিল। কিছু সময় মাদক কারবার বন্ধ ছিল। এখন আবার সেখানে মাদক ব্যবসা অবাধে চলছে। অভিযোগ জানানো হলেও কাজ হচ্ছে না। কীভাবে হবে, সর্ষের মধ্যে ভূত থাকে। একদিকে পুলিশের নামে মাদক ব্যবসায়ীরা সপ্তাহে ও মাসে টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে অবাধে মাদক ব্যবসা চলছেই। সাধারণ মানুষ রায়পাড়ায় খুব চিন্তিত।
একটি অভিযোগ পত্র অনুযায়ী, স্থানীয় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। এদের মধ্যে নেতৃত্ব দেয় জনৈক রিয়াজ। মানুষ তাকে পুলিশ সোর্স রিয়াজ নামে চেনে। স্থানীয়রা বলেন এই রিয়াজ দুর্ধর্ষ আওয়ামীলীগ ক্যাডার হিসাবেও পরিচিত। সে জলিল মুন্সীর ছেলে। অভিযোগ রয়েছে এই রিয়াজ নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য, প্রজন্ম ধ্বংসকারী ইয়াবার ডিলার। তবে সে কোন পুলিশের সোর্স তা জানা যায়নি। আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ১৭ বছরে বিএনপির নেতা কর্মীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানির ও মামলায় আটকের।
রিয়াজ ছাড়া সাত্তারের ছেলে জাফর, হালিমের ছেলে কবির, খালেকের ছেলে মুন্সী, মুরগী রহিম এবং বাবুর ছেলে রনি পাইকরি ইয়াবা ব্যবসায়ী। এরা ডিলার। তাদের সাথে খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করছে ইবার ছেলে ইমরান, সফিকুলের স্ত্রী সালমা, হাজুর ছেলে হোসেন, রমজান, মনার ছেলে উসমান, ও উসমানের ভাই ইকবাল।
রায়পাড়ার সামাজিক সূত্র জানাচ্ছে পুলিশের দুটি বিশেষ শাখা ও মাদক আবগারির নামে মাসোহারা সপ্তাহিক ও মাসিক কিস্তির টাকা দেয় উল্লিখিত মাদক ব্যবসায়ীরা। ফলে এরা অবাধে ইয়াবার অবৈধ ব্যবসা করছে। রায়পাড়া, আলতাফের মোড় থেকে রেললাইন ওভারব্রিজ পর্যন্ত অন্তত ১০/১২টি জায়গায় এরা মাদক বিক্রি করে। মাঝে মাঝে পুলিশ রাব আসলে এরা জায়গা পরিবর্তন করে। তবে এতে মাদক ব্যবসা বন্ধ হয় না।
নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানো এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা রায়পাড়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পায়। এটি গত ২০ বছরের একটি চিত্র। যা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক কিছু নেতা মাঝে মাঝে নিজেদের লোক বাড়ানোর জন্য মাদক ব্যবসায়ীদের দিয়ে মিটিং ও মিছিল করায়। আর্থিক সুবিধা নেওয়ার কথাও মাঝে মাঝে শোনা যায়।
যশোর জেলা পুলিশ সুপারের অফিস থেকে জানানো হয়েছে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতিতে রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে কোন চুক্তির সম্ভাবনা নেই। অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় এখন আরো কঠোর মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

