মোঃ সুজন আহম্মেদঃ
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ইঞ্জিনের অভাবে কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন সময়ে ছাড়তে পারেনি। এর ফলে শত শত যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। কিছু ট্রেন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে কিছু দূরপাল্লার ট্রেন দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় স্টেশনের মাইকে ঘোষণা করা হয়, ইঞ্জিনের অভাবে ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে। একই সঙ্গে এই সমস্যার জন্য সফরকারীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যথেষ্ট সংখ্যক ইঞ্জিনের অভাবে ট্রেন পরিচালনায় সময়সূচি অনুযায়ী সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বে ছাড়ছে।
তবে যাত্রীদের প্রশ্ন, যে ট্রেনগুলো দূর-দূরান্তের গন্তব্য থেকে কমলাপুরে এসেছে, সেগুলোর ফেরত যাওয়ার সময় ইঞ্জিনের অভাব কেন দেখা দিল? একটি ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তার পরবর্তী যাত্রার জন্য ইঞ্জিনের ব্যবস্থা আগে থেকেই নিশ্চিত করা হয় না কেন—এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেক যাত্রী।
কমলাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষমাণ কয়েকজন যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ সময় স্টেশনে বসে থাকতে হচ্ছে। শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেশি। তাদের দাবি, ট্রেনের সময়সূচি ও ইঞ্জিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে রেলওয়ের আরো কার্যকর পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
যাত্রীদের কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘পরিকল্পনাগত ব্যর্থতা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর প্রকৃত কারণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা জানতে চান, ইঞ্জিন সংকটের পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং নিয়মিত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে যাওয়ায় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। তবে ইঞ্জিন সংকটটি কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ কি না—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।
যাত্রীদের প্রত্যাশা, দায়িত্বপ্রাপ্ত রেলমন্ত্রী, সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এবং ভবিষ্যতে যেন ইঞ্জিন সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন আটকা না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

