মোঃ জোনায়েদ হোসেন জুয়েল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
মাদক দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। জেলার সর্বত্র মাদক ব্যবসায়ী, মাদক পরিবহনকারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশসহ বিভিন্ন থানার পুলিশ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে কুলিয়ারচর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৫৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে গোপন সংবাদে কিশোরগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম কুলিয়ারচর থানার লক্ষীপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক সংলগ্ন সোহেল মিয়ার দোকানের সামনে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা রানা মিয়া ওরফে নান্টু মিয়া (২৮)-কে আটক করা হয়। পরে আইনানুগভাবে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৫৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকৃত ইয়াবা জব্দ করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কুলিয়ারচর থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। মাদক কেনাবেচা, পরিবহন, সংরক্ষণ ও সরবরাহের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান চলছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, জনবহুল এলাকা এবং সম্ভাব্য মাদক রুটগুলোতে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের মতে, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে সমান গুরুত্ব দিয়ে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসায়ী বা তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে জেলা পুলিশের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কোথাও মাদক কেনাবেচা, মজুদ বা পরিবহনের তথ্য জানা গেলে নিকটস্থ থানায় কিংবা জেলা পুলিশের হটলাইনে দ্রুত জানাতে। জনগণের সহযোগিতা পেলে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও কার্যকর হবে এবং সমাজ থেকে মাদকের বিপদ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মতে, মাদক বিরুদ্ধ তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে। মাদকমুক্ত কিশোরগঞ্জ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমগ্র সমাজের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বড় শক্তি।

