মো: আল-মাহফুজ শাওনঃ
টানা ভারী বৃষ্টিতে খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত ও অপসারণে জরুরি সভা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। শনিবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভার শুরুতে সাম্প্রতিক জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর ভোগান্তির জন্য কেসিসির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এতে কেসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে দেশের অন্যান্য শহরের মতো খুলনা মহানগরীর কয়েকটি এলাকাও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। বিশেষ করে ছয়টি এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই জরুরি এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বৃষ্টি হলেই নগরীর কিছু এলাকায় পানি জমে যাওয়ার সমস্যা কেসিসির জন্য উদ্বেগের বিষয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, জলাবদ্ধ এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্থান থেকে দ্রুত পানি নেমে গেলেও মুজগুন্নী এলাকায় দীর্ঘ সময় পানি আটকে থাকে। এ সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. মাসুদ করিমের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মুজগুন্নী, লবণচরা ও রয়্যাল মোড়কে কেন্দ্র করে তিনটি উপকমিটি এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে মনিটরিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এসব কমিটি পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে প্রতিবেদন দেবে। পরে সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কেসিসির পূর্ত বিভাগ।
এ ছাড়া সময়মতো স্লুইস গেট পরিচালনা, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, চলমান ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে খুলনা মহানগরীর প্রায় ২৫ শতাংশ ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক উন্নত হবে। ভবিষ্যতে আরও তিনটি পাম্প হাউস নির্মাণ, আধুনিক ড্রেন পরিষ্কার যন্ত্র সংগ্রহ এবং বৈদ্যুতিক স্লুইস গেট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত মূল্যায়ন, নতুন ড্রেনেজ প্রকল্প গ্রহণ এবং ড্রেন ও খালের ওপর থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নগরবাসীকে ড্রেন ও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

