সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ
মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাথরুমে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের অভিযানে প্রধান সন্দেহভাজন সোলেমান মিয়া (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় বাড়ির পাশের কচুরিপানার মধ্যে আত্মগোপন করে থাকা সোলেমান মিয়াকে আটক করে। তিনি ব্রাহ্মণগ্রামের বাসিন্দা এবং আমান উল্লাহর ছেলে।
এর আগে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ব্রাহ্মণগ্রামের সুবাহান হাজীর বাড়ির বাথরুম থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৩২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুল আজিজ সিলেট জেলার বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা এবং শামসুল ইসলামের ছেলে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে আব্দুল আজিজকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি বস্তার ভেতরে ভরে বাথরুমে লুকিয়ে রাখা হয়, যাতে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া যায়। তবে স্থানীয়দের তথ্য এবং পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ঘটনাটি দ্রুত উদ্ঘাটিত হয়।
খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া সোলেমান মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশা।

