মোঃ নোমান হাসান খাঁন, স্টাফ রিপোর্টার:
দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় পাকা ও আধাপাকা ধান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য, তারা বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পানির নিচে ডুবে যাওয়া ধান কেটে ঘরে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষক পরিবারগুলো। প্রায় বুকসমান পানিতে নেমে নিরলস পরিশ্রম করে তারা যতটুকু সম্ভব ধান বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। অনেক ক্ষেত্রে ডুবে থাকা ধান কেটে নৌকা বা ভেলায় করে বাড়িতে আনতে হচ্ছে, যা এই মুহূর্তে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও শেষ সম্বল রক্ষায় কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে পিছপা হচ্ছেন না কৃষকেরা। শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাপেরকোনা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, পানিতে নেমে ধান কাটছি, যতটা পারি বাঁচানোর চেষ্টা করছি, এত কষ্টে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দিতে চাই না।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের অমৃতশ্রী গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, অনেক টাকা ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, যতটুকু সম্ভব ঘরে তোলার চেষ্টা করছি। এখন সরকারি সহায়তা ছাড়া তারা নিজেদের অসহায় মনে করছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ১৩৭টি হাওরে দুই লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “আমরা মঙ্গলবার থেকেই মাঠে কাজ করছি, কোথাও বাঁধে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছি। তিনি বলেন, যেসব জমিতে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে সেগুলো দ্রুত কেটে ঘরে তুলতে কৃষকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। সামনে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, আবহাওয়ার পূর্বাভাসও অনুকূলে নেই, তাই দেরি না করে ফসল সংগ্রহ করা জরুরি।”
সুনামগঞ্জ হাওরের ফসল রক্ষায় ১৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প ধরে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আগাম বন্যার ঝুঁকি থেকে বাঁধ সুরক্ষায় দিনরাত পাহারা দিতে পিআইসিদের নির্দেশনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ মিনহাজুর রহমান।
