সৈয়দ আমান উল্লাহ্, সিলেট প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে ১৯৮০-এর দশকের আদলে ছবি তৈরি ও প্রকাশের প্রবণতা চোখে পড়ছে।
শুধু তরুণ-তরুণী নয়—শিশু, মধ্যবয়সী, বয়স্ক এমনকি মডেলদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে এই ফটো-ট্রেন্ড। পোশাক, চুলের স্টাইল, পুরোনো ক্যামেরার আবহ, রঙের ব্যবহার ও সেই সময়ের জীবনযাপনের অনুকরণে তৈরি ছবিগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রশ্ন হলো—চার দশক আগের একটি সময় কেন আবার ডিজিটাল যুগের মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে?
৮০-এর দশকের ছবিতে বর্তমানের নিখুঁত ডিজিটাল সৌন্দর্যের পরিবর্তে ছিল স্বাভাবিকতা। ছবিতে আলো-ছায়ার সীমাবদ্ধতা, ফিল্মের দানা, অল্প রঙ, সাধারণ পোশাক এবং স্বাভাবিক অভিব্যক্তি—সব মিলিয়ে তৈরি হতো আলাদা একটি ভিজ্যুয়াল চরিত্র।
আজকের অতিরিক্ত এডিট, ফিল্টার ও কৃত্রিমভাবে নিখুঁত ছবির বিপরীতে সেই ‘অসম্পূর্ণ’ সৌন্দর্যই অনেকের কাছে নতুন আকর্ষণ তৈরি করছে।
এখানে সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো—১৯৮০-এর দশকের ছবি ফিরিয়ে আনছে ২০২০-এর দশকের প্রযুক্তি।
এআই ইমেজ জেনারেশন, ফটো এডিটিং অ্যাপ, রেট্রো ফিল্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কয়েকটি নির্দেশনা বা ফিল্টারের মাধ্যমে বর্তমানের একটি ছবিকে পুরোনো সময়ের ভিজ্যুয়াল স্টাইলে রূপ দিতে পারছে।
ফলে যে প্রজন্ম ১৯৮০-এর দশক দেখেনি, তারাও এখন সেই সময়ের পোশাক, ক্যামেরা, ঘরবাড়ি ও জীবনযাপনের দৃশ্যকে নিজের ছবিতে ব্যবহার করতে পারছে।
বয়স্করা হয়তো নিজেদের পরিচিত সময়কে নতুনভাবে দেখতে বা পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে বর্তমানকে মিলিয়ে নিতে চাইছেন।
মধ্যবয়সীরা নিজের শৈশব বা কৈশোরের সময়কে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরছেন।
আর তরুণ-তরুণীরা সেই সময়কে সরাসরি স্মৃতি হিসেবে না পেলেও এর পোশাক, চুলের স্টাইল, ক্যামেরার লুক ও ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতিকে নতুন ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ করছেন।
মডেল ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও কৌশলগত। পুরোনো লুকের ছবি সাধারণ ডিজিটাল কনটেন্টের বাইরে আলাদা পরিচিতি তৈরি করে, ফলে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের সম্ভাবনাও বাড়ে।
এই ট্রেন্ডের আরেকটি দিক হলো—মানুষ শুধু অতীতকে পুনর্নির্মাণ করছে না; বরং নিজের বর্তমান পরিচয়কে একটি পুরোনো ভিজ্যুয়াল ভাষার মাধ্যমে উপস্থাপন করছে।
অর্থাৎ ১৯৮০-এর দশক এখানে শুধু একটি সময় নয়, একটি স্টাইল, নান্দনিকতা ও সাংস্কৃতিক প্রতীক।
পুরোপুরি নয়। আধুনিক জীবনের দ্রুতগতি, অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা এবং একই ধরনের অসংখ্য ছবি মানুষের মধ্যে ভিন্ন কিছু দেখানোর আগ্রহ তৈরি করেছে। রেট্রো ছবি সেই ভিন্নতার সুযোগ দিচ্ছে।
তবে ১৯৮০-এর দশককে শুধু ‘সুন্দর সময়’ হিসেবে দেখাও ঠিক নয়। সেই সময়ের সামাজিক সীমাবদ্ধতা, অর্থনৈতিক সংকট ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও ছিল। বর্তমান প্রজন্ম মূলত সেই সময়ের দৃশ্যমান সংস্কৃতি ও নান্দনিকতাকেই নতুনভাবে ব্যবহার করছে।
ফলে এই ট্রেন্ডকে অতীতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা না বলে বলা যায়—অতীতের ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতিকে বর্তমানের প্রযুক্তি দিয়ে নতুন করে নির্মাণ।
আজকের মানুষ ১৯৮০-এর ছবি বানাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তিতে। পুরোনো ক্যামেরার আবহ তৈরি হচ্ছে এআই দিয়ে।
আর যে সময়কে অনেকে স্মৃতিতে ধরে রেখেছিলেন, সেটিই এখন নতুন প্রজন্মের কাছে হয়ে উঠছে নতুন ফ্যাশন।
সময়ের সবচেয়ে বড় পরিহাস—প্রযুক্তি যত আধুনিক হচ্ছে, ছবির ট্রেন্ড ততই ফিরে যাচ্ছে অতীতে।

