ফল প্রকাশে অসঙ্গতির অভিযোগে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকপত্র

ফল প্রকাশে অসঙ্গতির অভিযোগে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকপত্র ফল প্রকাশে অসঙ্গতির অভিযোগে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকপত্র

আহমদ হুসাইন লস্কর, হাইলাকান্দি, আসাম:

শিলচর আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা দেওয়া মারাত্মক অনিয়মগুলি দ্রুত সমাধানের জন্য আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকপত্র প্রদান করেছে ছাত্র সংগঠন এআইডিএসও’র কাছাড়, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি জেলা কমিটির একটি প্রতিনিধি দল। সংগঠনের সদস্যরা আজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে স্মারকপত্র হস্তান্তর করে উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অনুপ কুমারের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। তারা জানান, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষার ফল নিয়ে বিশাল উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।

বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক কম নম্বর পেয়ে অবাক হয়েছেন। একই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একাধিক বিষয়ে হুবহু একরকম নম্বর—শূন্য, দুই, চার—ইত্যাদি পেয়েছে। অথচ, এই শিক্ষার্থীরা অভ্যন্তরীণ (Internal) ও সেশনাল মূল্যায়নে খুব ভালো ফলাফল করেছিল। তাছাড়া, পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সত্বেও অনেক শিক্ষার্থীর মার্কসিটে কিছু নির্দিষ্ট পেপারে ‘অনুপস্থিত’ (Absent) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিনিধিদের মতে, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল প্রকাশের অফিসিয়াল পোর্টালটি চালু হওয়ার পরপরই অচল হয়ে যায়। এর ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের ফল বা মার্কসিট দেখতে পারেননি।

এই প্রক্রিয়াগত ত্রুটিগুলি ছাত্রদের শিক্ষা, মানসিক স্বস্তি এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের সম্ভবনাকে গুরুতর বিপদে ফেলেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা, সঠিক নম্বর প্রদান করা, উপস্থিতির নথিপত্র সংশোধন করা এবং ওয়েবসাইটের জরুরি আধুনিকীকরণ ও পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করা উচিত। প্রতিনিধিরা আরও বলেন, ন্যূনতম পরিকাঠামোর অভাবে শিক্ষার্থীরা এই সকল দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। কিন্তু এই দুর্বল কাঠামোর পরিবর্তন না করেই জাতীয় শিক্ষানীতির অযৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স শিক্ষার্থীদের উপর চাপানো হয়েছে। যা ভবিষ্যতে ছাত্রীর জীবনকে বিপন্ন করবে।

উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আন্তরিকভাবে আলোচনা করেছেন এবং জানান যে ছাত্রদের পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া বিনামূল্যে করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ধরণের সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাসও প্রদান করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এআইডিএসও’র আসাম রাজ্য কাউন্সিলের যুগ্ম সম্পাদক পল্লব ভট্টাচার্য, এআইডিএসও’র কাছাড় জেলা সম্পাদক স্বপন চৌধুরী, করিমগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য জয়দীপ দাস, বাবলী দাস এবং কাছাড় জেলা কমিটির সদস্য তুতন দাস।