বিশ্বজুড়ে ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন অধ্যায়ে পা রাখল কে-পপ সুপারগ্রুপ বিটিএস। প্রায় চার বছরের বিরতির পর ব্যান্ডটি নতুন অ্যালবাম, বিশাল কনসার্ট এবং বিশ্ব সফরের ঘোষণা করেছে, যা সংগীত–বিশ্বের জন্য এক ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’ এবং প্রত্যাবর্তন কনসার্ট
গত ২০ মার্চ প্রকাশিত হয়েছে ব্যান্ডের পঞ্চম অ্যালবাম ‘আরিরাং’। একই দিনে সিউলের গুয়াংঘওয়ামুন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয় প্রত্যাবর্তন কনসার্ট, যা সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার দর্শক। কনসার্টটি নেটফ্লিক্সেও লাইভ স্ট্রিম হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভক্তদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
অ্যালবামের নাম কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী লোকগান ‘আরিরাং’ থেকে নেওয়া হয়েছে। এতে আধুনিক সাউন্ডের সঙ্গে কোরিয়ার সাংস্কৃতিক শিকড়ের মেলবন্ধন লক্ষ্য করা যায়। অ্যালবামে ১৪টি গান রয়েছে এবং প্রকাশের আগেই এটি ইতিমধ্যেই রেকর্ড গড়েছে। স্পটিফাই জানিয়েছে, অ্যালবামের গানগুলি প্রকাশের আগেই ৫০ লাখের বেশি প্রি-সেভ হয়েছে, যা কে-পপ ইতিহাসে নজিরবিহীন।
ব্যান্ড সদস্যদের কথায় বিরতির সময়
ব্যান্ডের সদস্য জিমিন জানিয়েছেন, ‘আমরা নিজেদের পরিচয় নিয়ে গভীরভাবে ভেবেছি। কীভাবে আমাদের সংগীতে সেই পরিচয়কে সবচেয়ে সত্যভাবে তুলে ধরা যায়, সেটাই ছিল লক্ষ্য।’
বিশাল বিশ্ব সফর
কনসার্টের পর শুরু হবে ৮২টি শোর বিশ্ব সফর, যা নেটফ্লিক্সের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। নেটফ্লিক্সের এক নির্বাহী এই ইভেন্টকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লাইভ মিউজিক ইভেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া
মুক্তির পর অ্যালবামটি সমালোচকদেরও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। সংগীত বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘এটি যেন ব্যান্ডের নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসার চিঠি’। কোরিয়ার ঐতিহ্য, আবেগ ও আধুনিকতার মিশ্রণ এই অ্যালবামকে বিশেষ করেছে এবং বিটিএসকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।
বিক্রির রেকর্ড
অ্যালবামটি মুক্তির প্রথম দিনেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩.৯৮ মিলিয়ন কপি, যা কে-পপ ইতিহাসে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এটি বিটিএসের পূর্বের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে। আগের রেকর্ডধারী ‘ম্যাপ অব দ্য সিওল: ৭’ প্রথম সপ্তাহে বিক্রি হয়েছিল ৩.৩৭ মিলিয়ন কপি।
