সারোয়ার নেওয়াজ শামীম. হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে চুনারুঘাট পৌর শহরের আলোচিত মাদক সম্রাট মো. কাজল মিয়া (৪৭) যিনি ‘ইয়াবা কাজল’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে গায়েব হয়ে থাকা এবং বারবার জামিনে বের হয়ে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করা এই মাদক কারবারির আটক করায় চুনারুঘাট পৌর শহরের স্থানীয়রা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নির্দেশে ও হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদের তত্ত্বাবধানে চুনারুঘাট থানার একটি বিশেষ দল এ অভিযান চালায়। চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই খালিদ হোসেনসহ তার দলের সদস্যরা পৌর শহরের নিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করেন। কাজল মিয়া চুনারুঘাট পৌরসভার চন্দনা ধলাইপাড় এলাকার মৃত জহুর হোসেনের ছেলে।
সম্প্রতি চুনারুঘাট এবং চারপাশের এলাকায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং এতে কাজল মিয়ার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয় – ‘মাদকের বিস্তারে উদ্বেগ, ইয়াবা সম্রাট কাজলকে গ্রেপ্তারের দাবি’ শিরোনামে। বিষয়টি সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমানের নজরে আসলে তিনি দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ডিআইজির নির্দেশনায় চুনারুঘাট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কাজলকে ধরে ফেলে।
স্থানীয়দের মতে, পৌরসভার চন্দনা ও ধলাইপাড় এলাকায় কাজল এবং তার সহযোগীদের একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট ছিল। রাতের অন্ধকারে ইয়াবা সরবরাহের মূল দায়িত্ব ছিল কাজলের। তার বিরুদ্ধে কথা বললে সাধারণ মানুষ এবং প্রতিবাদীরা ভয়ংকর হয়রানির শিকার হতে হতো। জামিন পেলেই পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তো কাজল।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে অপরাধের ইতিহাস প্রায় ২০ বছরের। ২০০৬ সাল থেকে চুরি, মারামারি সহ নানা অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৫, ২০১৮, ২০২০, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৪ সালেও তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বরেও তাকে একটি মাদক মামলায় ধরা পড়েছিল। তবে প্রতিবারই জামিনে বের হয়ে সে আবারো মাদক ব্যবসায় ফিরে আসতো।
তার এসব কার্যকলাপে স্থানীয় কিশোর ও তরুণ সমাজ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছিল এবং সামাজিক অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। এদিকে ‘ইয়াবা কাজল’ গ্রেপ্তারের খবর শুনে চুনারুঘাটের সচেতন মহল এবং সুশীল সমাজ খুশি হয়েছে। অনেকের ধারণা, প্রধান আসামী ধরা পড়ায় পৌর এলাকায় মাদকের বিক্রি অনেকটাই কমে যাবে।
তবে সচেতন মহলের দাবি-মাত্র একজন মাদক কারবারিকে ধরা হলেই মাদক বাধাগ্রস্ত হবে না। কাজলের মতো ব্যক্তিদের পেছনে থাকা মাদক উৎপাদনের মূল উৎস, সরবরাহের পথ, পরিবহণকারী এবং শক্তিশালী সহযোগীদেরও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে এই অপরাধীরা আর রক্ষা না পায়।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি যোগদানের পর থেকেই কাজলকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করছিলাম এবং গতকাল আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়। মাদক এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

