রহমতআরিফ, ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা:
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকায় আট মাসের গর্ভবতী গৃহবধূ মিতু আক্তারের মৃত্যুতে তার স্বামীকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগে সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) রাতে মিতুর বাবা দেবারু মোহাম্মদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্তদেরমধ্যেআছেন নিহতের স্বামী শাহিনুর রহমান (চান্দু), শ্বশুর মো. মুসলিম উদ্দীন ও শাশুড়ি মোছা. সাহেরা খাতুন। তারা সকলেই সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার অধিবাসী।
মামলারএজাহারেউল্লেখকরাহয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের আরাজি রামপুর গ্রামের দেবারুরকন্যা মিতু আত্তারের সঙ্গে বন্দরপাড়া এলাকার শাহিনুর রহমানের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকেই মিতুর ওপর যৌতুকদাবিকরেনানা ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হত। পাশাপাশি তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকআলোচনা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, শাহিনুর দীর্যায়ীএবংজুয়াখেলায় আসক্ত ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার ঈদুল আজহার দিনে দেবারু মোহাম্মদ তার দুই নাতিকে নিয়ে মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে এক নাতিকে রেখে বাড়িতে ফিরে আসেন। দুই দিন পর ভোরে শাহিনুরের ভাই শাহিদুল ইসলাম ফোন করে মিতুর মৃত্যুর খবর দেন। তিনি খবর পাওয়ারপর মেয়ের বাড়িতেযাওয়ার পথে জানতে পারেন,মৃতদেহটি থানায় নিয়েযাওয়াহচ্ছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিন মিতু বাবার বাড়িতে যাওয়ার জন্য স্বামীর কাছে কিছু অর্থ চাইলে শাহিনুর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। এ সময় শ্বশুর ও শাশুড়িযৌতুকপ্রসঙ্গে গালিগালাজ এবং নির্যাতনে যুক্তহন।বহুদিনেরঅত্যাচার ও ওইদিনের ঘটনার পর মিতু মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার ইচ্ছাপ্রকাশকরলে তার স্বামী তাকে আত্মহত্যারজন্য উসকানিমূলক কথা বলেন,এবিষয়টি এজাহারে উল্লিখিতহয়েছে।
পরেদুপুরেরদিকে ঘরের মেঝেতে মিতুকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানোরপর,আবারঠাকুরগাঁওয়ে মৃত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।
এদিকে, মরদেহ থানায় নেওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে নিহতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, রোববার দিনভর ও রাত পেরিয়ে গেলেও ময়নাতদন্ত করা হয়নি। এরপর সোমবার বিকেল ৩টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের বাবা দেবারু মোহাম্মদ বলেন, আমার মেয়ে আট মাসের গর্ভবতী ছিল। আগামী জুন মাসেই তার সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে আমি মেয়ে ও আগত নাতিকে হারালাম। যৌতুকের জন্য প্রায়সময় তাকে মারধর করা হত। শাহিনুর মাদক ও জুয়ারিকার্যকলাপে জড়িত ছিল। বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর যৌতুকেরজন্য বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতো। বিষয়টিকে পারিবারিকভাবে সমাধানের জন্য আমরা বহু চেষ্টা করেছি। মেয়ের সংসার রক্ষার জন্য যাকিছু সহ্য করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি আমার মেয়েকে রক্ষাকরতে পারলাম না।
তিনি আরও বলেন, মরদেহ বাড়িতে আনার পর গোসল করার সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। তখন আমার হৃদয়েবেদনাদায়ক কান্না উঠে। যে মেয়েকে আমি এত যত্নওভালোবাসা দিয়ে বড় করেছি, সেএমনভাবেচলেযাবে,এটাকখনওভাবিনি। শুধু আমার মেয়ে নয়, তার গর্ভের পবিত্র সন্তানটিও পৃথিবীর আলো দেখার আগে চলে গেল। আমি চাই, যারা আমার মেয়ের মৃত্যুঘটিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন উল্লেখকরেন,মৃতদেহটি গতকাল সকালে থানায় আনা হয়েছিল। ময়নাতদন্ত করার জন্য পুলিশকর্তৃপক্ষযথাযথসময়েরমধ্যেসব আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপগ্রহণকরে। তবে কিছু প্রযুক্তিগতএবংপ্রক্রিয়ার কারণে ময়নাতদন্তেসময়লেগেছে বলে আমাদেরজানাগেছে। সম্ভবত দায়িত্বরতচিকিৎসক বা ডোমের অনুপস্থিতির কারণেএইপরিস্থিতিহয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছি এবং যততাড়াতাড়িসম্ভব ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তেরপর নিহতের পরিবারকেমৃতদেহ হস্তান্ত
