মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়নের প্রত্যাশা সংক্রান্ত নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “বাজেট এবং কুড়িগ্রাম: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়নের প্রত্যাশা” শীর্ষক এই আলোচনা মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে শহরের কলেজ মোড়ের পৌর অডিটোরিয়াম মার্কেটের গ্র্যান্ড অ্যাসেম্বেলি হলরুমে আয়োজন করে “কুড়িগ্রাম পার্লামেন্ট।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ। তিনি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল মতিন ফারুকী, সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, প্রেসক্লাব সভাপতি শফি খান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এই আলোচনায় শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আলেম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, এনজিও প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, সংখ্যালঘু প্রতিনিধি, জেলে সম্প্রদায় এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছেন। তারা জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্যের অবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্রঋণ, বাল্যবিবাহ, মাদকদ্রব্য ও দুর্নীতিসহ নানা সমস্যা তুলে ধরেন। পাশাপাশি যুব প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন বাজেটের সঠিক ব্যবহার এবং জেলার জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবিও জানান বক্তারা।
বক্তব্যে এমপি ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হয়ে গেলেও কুড়িগ্রাম এখনও উন্নয়নে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কাছে কুড়িয়ে এখনো বেশিরভাগ সড়ক কাঁচা এবং সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকার প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, জেলার হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ, এনআইসিইউ, এমআরআই মেশিনসহ আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন। এই বরাদ্দ পেলে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক ও জনবল সমস্যা সমাধান এবং চিকিৎসাসেবার মান বৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষা, কৃষি, নদীভাঙন প্রতিরোধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের উন্নতির জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে উন্নয়ন বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার এবং দুর্নীতি মোকাবেলার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
