মোঃ আলমগীর হোসাইন, স্টাফ রিপোর্টার:
সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হওয়া থেকে শুরু করে বন্ধুত্ব, আকর্ষণ এবং এরপর বিয়ের পথে যাত্রা। চীন থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসে মোরশেদা বেগমকে বিয়ে করেছেন একটি চীনা যুবক আন হুং ওয়েই।
এই ব্যতিক্রমী প্রেম ও বিয়ের ঘটনা বর্তমানে পুরো অঞ্চলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের কন্যা মোরশেদা বেগম ঢাকায় থাকাকালীন আন হুং ওয়েই’র সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত হন। তাদের পরিচয়ের পর নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব ও ভাষার ভিন্নতা তাদের ভালোবাসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এক পর্যায়ে মনের মানুষকে নিজের করে নিতে চীন থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন আন হুং ওয়েই। পরে দুই পরিবারের সম্মতি নিয়ে দেশীয় রীতি ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
বর্তমানে নবদম্পতি মোরশেদা বেগমের গ্রামে অবস্থান করছেন। বিদেশি জামাইকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন আশপাশের মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ কৌতূহল নিয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছেন। ভাষার বিপরীতে হাসি ও ইশারায় তারা যোগাযোগ করছেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, চীনা যুবক আন হুং ওয়েই অত্যন্ত বিনয়ী, শান্ত ও আন্তরিক। ভাষাগত সমস্যার সত্ত্বেও তার আচরণে এলাকার লোকজন মুগ্ধ হয়েছেন।
মোরশেদা বেগম বলেন, আমাদের প্রথম পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে হয়। পরে ধীরে ধীরে আমাদের সম্পর্ক আরো গভীর হয়। ভালোবাসার কারণে তিনি চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং আমরা বিয়ে করি। বর্তমানে আমরা খুব সুখে আছি।
চীনা যুবক আন হুং ওয়েই জানান, বাংলাদেশে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এখানে মানুষের আতিথেয়তা এবং পরিবেশ আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছে। মোরশেদাকে বিয়া করে আমি খুব খুশি।
দুই দেশের ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষার ব্যবধান অতিক্রম করে গড়ে ওঠা এই প্রেমের কাহিনী এখন কুড়িগ্রামজুড়ে এক আলোচনা স্থল হয়ে উঠেছে।
