বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ আল মুনতাকিম:
তিনি হিমালয়ের অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প জয় করেছেন। এখন তাঁর লক্ষ্য এভারেস্ট জয় করা। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পিকের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা তুলতে চান। ছোটবেলা থেকেই পাহাড়ের প্রতি তার অদ্ভুত আকর্ষণ রয়েছে। কৈশোরে মেঘের উপর হাঁটার স্বপ্ন দেখতেন।
অন্যদিকে, তিনি একজন শিক্ষক। বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত একটি মর্যাদাপূর্ণ কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষিকা হিসেবে কাজ করছেন। শ্রেণীকক্ষে ছাত্রদের কাছে তিনি এক প্রিয় শিক্ষক হিসেবে পরিচিত, আর পাহাড়ের পথে তিনি একজন সাহসী অভিযাত্রী। ছাত্রজীবনে “গর্ভধারিণী” উপন্যাসটি পড়েই হিমালয়ের প্রতি প্রেমে পড়েন।
এ সেই প্রেম পরবর্তীতে এক স্বপ্নে পরিণত হয়, যা তাকে নিয়ে যায় দুর্গম পাহাড়ের পথে। এভারেস্ট জয় করার যাবতীয় প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশের প্রায় সকল উঁচু পাহাড়ে তিনি পদার্পণ করেছেন। তিনি কেওক্রাডাং, তাজিংডং এবং সাকা হাফংসহ অনেক কঠিন পথ জয় করেছেন। প্রতিটি পাহাড় তাকে শেখিয়েছে ধৈর্য, সাহস এবং আত্মবিশ্বাস। প্রতিটি অভিযানে তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। ঝড়-বৃষ্টি, কুয়াশা, কিংবা পাথুরে বিপজ্জনক পথ কিছুই তার অভিযাত্রার গতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।
অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প (৪১৩০ মিটার বা ১৩৫৫০ ফুট উচ্চতা) জয় তার জীবনের একটি বড় অর্জন ছিল। ২০২৫ সালে অন্নপূর্ণা জয় করার উদ্দেশ্যে তিনি নেপালের দিকে রওনা দেন। ২৫ মার্চ তার অভিযান শুরু হয়।
হিমালয়ের মধ্যে হাঁটার সেই অভিজ্ঞতা আজও তারকে প্রাণিত করে। বরফে ঢাকা পাহাড়ের নীরবতা তাকে স্বপ্নের গভীরতা সম্পর্কে শেখায়। এভারেস্ট এখন শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও এক উৎসাহের উৎস। শেখ ফরিদ বিশ্বাস করেন, স্বপ্ন দেখতে জানলে, কঠোর পরিশ্রম এবং সাহস থাকলে অসম্ভব কিছুই নেই। তিনি চান তরুণ প্রজন্ম মোবাইলের পর্দা বাদ দিয়ে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করুক এবং নতুন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে নিজেদের আবিষ্কার করুক। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি প্রমাণ করেছেন—কোন পেশা মানুষের পরিচিতি হতে পারে, তবে স্বপ্নই তাকে অসাধারণ করে তোলে। শেখ ফরিদ পাহাড়ের সাথে তার পথ চলা অব্যাহত রেখেছেন এবং এখন তাঁর দৃষ্টিতে একটাই লক্ষ্য, এভারেস্টের চূড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ানো।
