শেরপুরে অভিযোগের মধ্যেই বহাল প্রধান শিক্ষক

শেরপুরে অভিযোগের মধ্যেই বহাল প্রধান শিক্ষক

মোঃ আল মুনতাকিম,শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সরকারি ক্ষতিপূরণের প্রায় এক কোটি টাকা ও দোকানঘরের ভাড়া ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ থাকলেও প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে বহাল থাকায় স্থানীয়দের মাঝে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা গত ১০ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩১ মার্চ বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান আলী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির প্রায় ২৭ বিঘা জমি মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য অধিগ্রহণ করা হলে সরকার ৯৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করে। তবে এই অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বগুড়া এলএ শাখা থেকে বিদ্যালয়ের হিসাবে অর্থ জমা হয়। পরে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কয়েক ধাপে ৩১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক দোকানঘর থেকে প্রতি মাসে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ভাড়া আদায়ের কথা থাকলেও সেই অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অধিকাংশ দোকান অন্যদের দখলে থাকায় ভাড়া আদায় সম্ভব হচ্ছে না। উত্তোলিত অর্থ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. দিলফুজার রহমান রিপনও অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে জানান।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে বড় ধরনের উন্নয়নকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। খেলার মাঠ সংস্কারের নামে বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাঠের একটি অংশ প্লট আকারে বণ্টন করা হয়েছে। উত্তোলিত অর্থের একটি অংশ প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগও রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. রমজান আলী জানান, আয়-ব্যয়ের নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই শেষে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ নিয়েও আগে বিতর্ক ছিল। ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ ওঠে। নতুন করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।