নাটোর প্রতিনিধি:
হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন ৮ ঘন্টা ডিউটি কার্যকর নিয়োগ পত্র প্রদান স্ববেতনে সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্যান্য ছুটি প্রদান সহ হোটেল শিল্পের শ্রম আইনের বাস্তবায়নের দাবীতে রাজশাহী – রংপুর বিভাগীয় যৌথ প্রতিনিধি সম্মেলন এবং বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে নাটোর শহরের রসুলের মোড়ে যৌথ প্রতিনিধি সম্মেলন শেষে রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নমজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে ছায়াবানী মোড়ে এসে শেষ হয় পরে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন হোটেল রেস্তোরা সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক আক্তারুজামান খান,বাংলাদেশ হোটেল রেষ্টুরেন্ট সুইটমিট ম্রমিক ফেডারশনের সভাপতি জিন্নাত আলী খালেক,হোটেল রেস্তোরা সেক্টরে সররকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির আহবায়ক সমর চন্দ্র সরকার,হোটেল রেস্তোরা সেক্টরে সররকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি ও শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ উত্তরাঞ্চলের আহবায়ক আব্দুল মৌমিন মন্ডল,প্রচার সম্পাদহোটেল রেস্তোরা মিষ্টান্ন শ্রমিক ইউনিয় নাটোর জেলা শাখা সেলিম মাহমুদ সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা বলেন , হোটেল রেস্তোরাঁ সেক্টরের শ্রমিকদের যেমন নেই চাকরির নিশ্চয়তা-আইনি স্বীকৃতি, তেমনি নেই জীবনের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা।
হোটেল-রেস্টুরেন্ট মালিকরা দেশে প্রচলিত শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে তাদের মনগড়া ইচ্ছামাফিক স্বেচ্ছাচারী কায়দায় তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য হোটেল প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। কাগজে-কলমে প্রচলতি শ্রম আইনে নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান, দৈনিক ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, অতিরিক্ত কাজে দ্বিগুণ মজুরি ও বছরে ২ টি উৎসব বোনাস প্রদান, মজুরিসহ সাপ্তাহিক দেড় দিন ছুটি, বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১৩ দিন উৎসব ছুটি, ১৪ দিন চিকিৎসা ছুটি, প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১২০ দিন ইত্যাদি সহ চাকুরী শেষে গ্র্যাইচুটি সহ অন্যান্য অধিকার থাকলেও হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি সেক্টরে মূলতঃ তা বাস্তবায়ন করা হয় না। শ্রমিকদের আইনী অধিকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের শ্রমদপ্তর ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের থাকলেও তারা অনৈতিক আঁতাতের মাধ্যমে মালিকদের স্বার্থ রক্ষায় স্বীয় দায়িত্ব পালন করেন না। গত ৫ মে ২০২৫ মজুরি গেজেট প্রকাশিত হয়।
গেজেটে উল্লেখ্য হোটেল রেস্টুরেন্টে ওয়েটার সহকারি সহ অন্যান্য সহকারীদের ৮ ঘন্টা ডিউটির বিনিময়ে বেতন পাবে ১৩,০৫০ টাকা অথচ বাস্তবে তাদের ৬-৭-৮ হাজার টাকায় শ্রমিকদের খেঠে নেওয়া হচ্ছে ১২-১৪ ঘন্টা ডিউটি।
যাহা দেশের প্রচলিত শ্রম আইন পরিপন্থী। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতির বাজারে শ্রমিকরা যে বেতন পায় তা দিয়ে মাসের ১০ দিন চলাও কঠিন। সরকারি গেজেটের নিম্নতম মজুরিও মালিকরা বাস্তবায়ন করে না, আর সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা পালন করেন না। শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে পথে অগ্রসর হলে মালিক-সরকার একাকার হয়ে শ্রমিকদের উপর বিভিন্ন কৌশলে নির্যাতন চালায়।
বক্তাগন বলেন কথায় কথায় শ্রমিক ছাটাই ও নির্যাতন বন্ধ করার সহ অবিলম্বে মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন ৮ ঘন্টা ডিউটি কার্যকর, মালিক কর্তৃক নিয়োগ পত্র ও পরিচয় পত্র প্রদান সহ স্ববেতনে সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটি প্রদানসহ হোটেল শিল্পের শ্রম আইন বাস্তবায়ন করার জোর দাবী জানানো হয়।

