তারেক মনোয়ার, বিশেষ প্রতিনিধি:
বগুড়ায় জন্মদিনের দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে পিস্তল, ধারালো চাকু ও কুঠার দেখিয়ে মারধর এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে তিনজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. গোলাম রব্বানী (২৬) বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোলাম রব্বানী দুপচাঁচিয়া উপজেলার বড়ধাপ এলাকার বাসিন্দা। পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে অভিযুক্তদের একজনের স্ত্রী মোবাইল ফোনে তাকে জন্মদিনের দাওয়াত দেন। পরে বন্ধু মো. আল আমিনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বগুড়া সদর থানার জহুরুলনগর এলাকায় ওই ব্যক্তির বাড়িতে যান।
গোলাম রব্বানীর অভিযোগ, সেখানে অভিযুক্ত তিনজনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা যাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর অভিযুক্ত ব্যক্তির স্ত্রী একটি ব্যাগ থেকে ইয়াবা, মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বের করে তাকে সেবনের জন্য চাপ দেন। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার বন্ধুকে গালিগালাজ করা হয়।
একপর্যায়ে তাদের মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একজন পিস্তল এবং আরেকজন ধারালো চাকু বের করে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন গোলাম রব্বানী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের আবারও মারধর করা হয়। এ সময় ইয়াবা, মদ, পিস্তল, চাকু ও কুঠার সামনে রেখে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গোলাম রব্বানীর দাবি, পরে অভিযুক্তদের দেওয়া একটি বিকাশ নম্বরে দুই লাখ টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং কার্ডের মাধ্যমে আরও এক লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, ঘটনার পর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করায় থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযোগের তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গোলাম রব্বানী।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাগুলোর সত্যতা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

