কয়রায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী নারীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কয়রায় গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী নারীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এসকে এম মহসিন রেজা, উপজেলা প্রতিনিধি :

খুলনার কয়রা উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশ (দফাদার)-এর বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধী নারীর সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. রাফেজা খাতুন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বেদকাশী এলাকার বাসিন্দা রাফেজা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে তার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ভাতা পুনরায় চালুর আশায় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার মতিয়ার রহমানের সহযোগিতা নেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভাতা চালুর কথা বলে মতিয়ার রহমান ভুক্তভোগীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর সমাজসেবা অফিসে যুক্ত করে পাঁচ মাসের বকেয়া ভাতার ১৩ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে রাফেজা খাতুন সমাজসেবা অফিসে গিয়ে ভাতার টাকা না পাওয়ার বিষয়টি জানালে তিনি জানতে পারেন, নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী রাফেজা খাতুন বলেন, “আমি একজন প্রতিবন্ধী নারী। এই ভাতার টাকাই ছিল আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। প্রতারণার মাধ্যমে সেই টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে।”

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।