কালিয়ায় কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা মামলা

কালিয়ায় কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা মামলা

খন্দকার আলী আবীর, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

নড়াইলের কালিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা চুরি, জালিয়াতি ও প্রতারণা করার চেষ্টা করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। সরকারি নথি বিকৃত করার বিষয়টি তুলে ধরতে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) এই অভিযোগ করেন।

জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা মো. এনামুল কবির, যিনি ইমন নামেও পরিচিত।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী মামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (১৩ মে) রাতে কালিয়া কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শুভাশীষ মণ্ডল এই মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত মো. এনামুল কবিরের (৩৮) জন্মস্থান যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা গ্রাম। তিনি ওই গ্রামের মো. বাবর আলীর সন্তান। এনামুল নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুন্দশী (মালোপাড়া) এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। বর্তমানে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সাতক্ষীরা অভিমুখী আঞ্চলিক অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মো. এনামুল কবির ২০২৫ সালের ১০ মার্চ থেকে চলতি বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত কালিয়া কৃষি ব্যাংকে দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনের সময় নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারসহ অন্যান্য নিরাপত্তা দস্তাবেজগুলো তার তত্ত্বাবধানে ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ, অফিস শুরু হওয়ার পূর্বে সকালে ৮টা ৩৯ মিনিটে শাখায় এসে তিনি জালিয়াতির উদ্দেশ্যে নিজের কাছে থাকা নন-এমআইসিআর পে-অর্ডারের একটি পাতা (নম্বর- ০৭২৬৯৯৯) সরিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে শাখার সিসিটিভি ফুটেজে এই ঘটনা নিশ্চিত হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এনামুল ওই পে-অর্ডারের পাতাটি শাখার বাইরে নিয়ে জালিয়াতির সদস্যদের কাছে দেন। এরপর ওই পে-অর্ডারে শ্যামলী শাখার নাম, কর্মকর্তাদের নাম ও সিল জাল করে ৮৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনে (বিআইডব্লিউটিসি) জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীকালে বিআইডব্লিউটিসির মাধ্যমে পে-অর্ডারটি ভাঙিয়ে নগদ টাকা উত্তোলনের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ঢাকার স্থানীয় প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রধান কার্যালয় হয়ে কালিয়া শাখায় কৈফিয়ত তলব করার পর পুরো ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।

ব্যাংক কর্মকর্তা এনামুল প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবে পরে তথ্যপ্রমাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। তিনি জালিয়াতি চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য দিতে চাইলেও পরে তা দেননি বলে অভিযোগ আনা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার পাশাপাশি শাস্তির আওতায় সাময়িক বরখাস্ত করে সাতক্ষীরায় ভারপ্রাপ্ত করা হয়।

তবে অভিযোগগুলি অস্বীকার করে এনামুল কবির সময় সংবাদকে জানান, ‘দস্তাবেজ আমার কাছে ছিল, সেটি হারিয়ে গেছে। তবে আমি কোনও জালিয়াতি করিনি।’

কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হবে।