মো: আল-মাহফুজ শাওন:
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা-এর সাহস ইউনিয়নের তেলিগাতি ও ভদ্রা নদীর মোহনায় অবস্থিত বাঁশতলা ও লতাবুনিয়া গ্রামে অবশেষে রক্ষাবাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও বাড়িঘর ও ফসল রক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চারদিকে নদী বেষ্টিত হওয়ায় মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দুই গ্রাম প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকে। বিশেষ করে ২০২১ সালে রক্ষাবাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হলে প্রায় ১শ’ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয় এবং ফসলি জমি ও মাছের ঘের তলিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।
বর্তমানে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধটির বিভিন্ন অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ মিটার এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় দ্রুত মেরামতের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
লতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনে অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তারা স্থায়ী সমাধানের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপরই গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেন।
উপজেলা প্রকৌশলী জানান, এর আগে ২০২১ সালে একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭.৭ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে আবারও বিভিন্ন স্থানে দুর্বল হয়ে পড়েছে বাঁধটি। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য নতুন বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আসন্ন বর্ষায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে তাদের বসতভিটা ও জীবিকা।
