মো: আল-মাহফুজ শাওনঃ
খুলনায় অনেক আলোচনা হওয়া বস্তাবন্দি কিশোরী হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রহস্য খুলনা সদর থানা পুলিশ প্রকাশ করেছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কিশোরীর মা ও বাবা ধরা পড়েছেন। উভয় আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ভীষণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় খুলনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহত কিশোরীর পরিচয় জানা যায়। নিহতের নাম আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬)।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পারিবারিক কলহের জন্য ওই কিশোরীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা বলেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তুমুলক জবানবন্দি দেন।
এদিকে, মামলার প্রধান আসামি ও নিহত কিশোরীর বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ (৪০) ঘটনার পর থেকে পলায়ন করেছিলেন। তাকে ধরা পড়ানোর জন্য খুলনা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালায়।
অবশেষে ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে খুলনা সদর থানা পুলিশ ও র্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা এলাকা থেকে আলীম হোসেন আকাশকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনিও হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। পরে ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ফেলে রাখা হয়েছিল। তদন্তের ধারাবাহিতায় পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে আসে এবং একে একে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।
এভাবে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে আলোচিত নির্জনা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং মামলার উভয় আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে খুলনা সদর থানা পুলিশ। আদালতে বাবা-মায়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মাধ্যমে এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে।

