চৌদ্দগ্রামে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক

চৌদ্দগ্রামে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক

এরশাদ রানা (কুমিল্লা)

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাত ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি উৎপাদনসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন মালিক ও শ্রমিকরা। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও বিদ্যুৎ সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ চৌদ্দগ্রাম জোনাল অফিসের ডিজিএম নুরুজ্জামান জানান, উপজেলার দুটি জোনাল ও একটি সাব-জোনাল অফিসের মাধ্যমে মোট প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহককে সেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে চৌদ্দগ্রাম জোনে প্রায় ৫০ হাজার, গুণবতী জোনে ৪০ হাজার এবং মিয়া বাজার সাব-জোনে আরও ৪০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে তিনি জানান। তার মতে, বিদ্যুৎ সংকট এখন জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে।

শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এতে ক্রেতা হারানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি দিতেও সমস্যায় পড়ছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ফ্রিজে রাখা খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে আর্থিক লোকসান বাড়ছে।

চান্দিশড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিশু-বৃদ্ধসহ সবাই ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয়রা দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন। সচেতন মহলের মতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে স্থানীয় অর্থনীতি ও শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।