বিশেষ প্রতিনিধি: কামরুল ইসলাম, কক্সবাজার:
বান্দরবানের সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মাদক মামলায় আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৫।
বাংলাদেশ আমার গর্ব—এই আদর্শের আলোকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা সুরক্ষার ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অপরাধ এবং মাদক বিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সাথে সাথে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং আদালতের দ্বারা সাজাপ্রাপ্ত দীর্ঘকাল ধরে পালিয়ে থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাব নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং অভিযানের ব্যবস্থা করছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫ এর সিপিসি-৩, বান্দরবান ক্যাম্পের একটি দক্ষ অভিযান দল ২৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার ২নং কুহালং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের গুংগুরু বাজারে বিশেষ অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দণ্ডিত এবং দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে থাকা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি চাই থুই প্রু (৩৪)-কে আটক করা হয়।
আটক হওয়া চাই থুই প্রু বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ঘুংগুরু মুখপাড়া এলাকার বাসিন্দা চাই পো খিয়াং-এর ছেলে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায় দায়ের হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলা চলমান ছিল। মামলার রায় শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের নির্দেশ দেন। অর্থদণ্ড অাদায় না করলে অতিরিক্ত ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের সিদ্ধান্ত নেন আদালত। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
যেহেতু সাজা ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই চাই থুই প্রু আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলে আত্মগোপন করে ছিল। প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে র্যাবের অভিযান তাকে আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
আটক হওয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য র্যাব-১৫ তাকে বান্দরবান সদর থানায় হস্তান্তর করেছে।

