মাদকবিরোধী বার্তা নিয়ে শেষ হলো সুফিয়া-মান্নান যুব জাগরণ ফুটবল টুর্নামেন্ট

ষ্ট্যাফ রিপোর্টার:

যুব সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধ থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার মাধ্যমে একটি সুস্থ এবং সচেতন প্রজন্ম গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সুফিয়া-মান্নান যুব জাগরণ ফুটবল টুর্নামেন্টের (সিজন-২) ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল।

রবিবার (৩১ মে) বিকেলে ফাইনাল ম্যাচে অংশ নেয় দুরন্ত স্পোর্টিং ক্লাব এবং তরুণ সংঘ। এই উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ম্যাচে বিজয়ী হয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা অর্জন করে তরুণ সংঘ। মাঠে সমবেত হয় বিভিন্ন এলাকার ক্রীড়ামোদী দর্শক, যুবক, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট অতিথিরা। দর্শকদের উপস্থিতিতে পুরো মাঠ একটি প্রাণবন্ত মহোৎসবে পরিণত হয়।

ফাইনাল খেলাটি উদ্বোধন করেন বিন্নাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান লুৎফুর বারিক কোকন। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণদের সঠিক পথে রাখতে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত ক্রীড়া চর্চা তরুণদের শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশে সাহায্য করে।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, যুবক প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধের অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনতে সমাজের সকলের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। খেলাধুলা যুব সমাজকে ইতিবাচক কাজে জড়িত করে এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির প্রাক্তন প্রচার সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম চপল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাত, সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ, সদর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাঈদ (সাদাম), অনিফ হাসান জান্নাতুল, সিনিয়র শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের নির্মাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোবারক হোসেন সুমন, পরিচালক হুমায়ুন কবীর মিল্লাতি, নির্বাহী অফিসার মো. আশিকুর রহমান তানভীর, আল রাবিসহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করেন আনোয়ার পাশা, মাওলানা আবু হানিফ এবং আল মামুন। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনা খেলায় গতিশীলতা যোগ করে। আয়োজকরা জানিয়ে দেন, এটি কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন নয়, বরং যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে সামাজিকভাবে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তারা আরও উল্লেখ করেন, তরুণদের মধ্যে ক্রীড়াচর্চা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রতিবছর এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখযোগ্য যে, সুফিয়া-মান্নান গণগ্রন্থাগারের আয়োজনে এবং সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে স্থানীয় যুব সমাজ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে। সফল আয়োজনের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরটি শেষ হয়, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা সংগ্রহ করেছে।