পরপর দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

পরপর দ্বিতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

সৌরভ দত্ত, বিশেষ প্রতিনিধি :

দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর আইপিএল জয়ের স্বাদ নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এবার ৩১ মে ২০২৬। ৩৬২ দিন পরে ব্যাক-টু-ব্যাক আইপিএল ট্রফি নিজেদের করে নিল আরসিবি। এক বছর আগেও সেই সবরমতী নদীর পাড়ে ছিল কাহিনি। আবারও আহমেদাবাদে লাল আলো দেখা গেল! গুজরাত টাইটান্সকে একপেশে ভাবে পরাজিত করে, তাদের দ্বিতীয় শিরোপার আশা ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ে দিল আরসিবি।

চেন্নাই সুপার কিংস (২০১০ ও ২০১১) এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (২০১৯-২০২০) এর পর তৃতীয় দল হিসাবে পর পর দুইবার আইপিএল জিতে ফেলল বিরাট কোহলিরা। টস জিতে রজত পাতীদার শুভমন গিলদের ব্যাটিং করার সুযোগ দেন। ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হ্যাজেলউড এবং রসিক সালামের দ্রুত গতির বোলিং গুজরাতকে শুরুতেই চাপে ফেলে।

চার ওভারের মধ্যেই দুই প্রধান ওপেনার সাই সুদর্শন (১২ বলে ১২) এবং অধিনায়ক গিল (৮ বলে ১০) ফিরে যান ডাগআউটে। তাঁদের অবদান ছিল ২২ রান। সুদর্শনকে আউট করেন ভুবি। গিলকে তুলে নেন অজি পেসার হ্যাজেলউড। ১৩ ওভারে ৭৩ রান নিয়ে চারটি উইকেট হারিয়ে গুজরাত দল সত্যিই বিপদে পড়ে যায়। তিনে ও চারে নামা নিশন্ত সিন্ধু (১৮ বল ২০) এবং জস বাটলার (২৩ বল ১৯) দুজনেই তেমন কোনও সাফল্য পাননি। সিন্ধুকে ফেরান রসিক।

বাটলারকে তুলে নেন ক্রুনাল পাণ্ডিয়া। পাঁচে নামা ওয়াশিংটন সুন্দর যদি ৩৭ বল খেলে অপরাজিত ৫০ রান না করতেন, তাহলে গুজরাত ১০০ রানও করতে পারত কিনা এ বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ ৬ থেকে ১০-এ আসা খেলোয়াড়রা সবাই দুই অঙ্কে রান করতে পারেননি! গুজরাত সবশেষে ৮ উইকেটে ১৫৫ রানে শেষ হয়ে যায়। গুজরাতের হয়ে রসিক ৩ উইকেট নিয়েছেন। দুটি উইকেট ভাগ করেন হ্যাজেলউড ও ভুবি। একটি উইকেট হার্দিক পাণ্ডিয়ার দাদার অ্যাকাউন্টে যায়।

আরসিবি’র জন্য ১৫৫ রান যে কোনো লক্ষ্য হতে পারে সে ব্যাপারে আর বলার প্রয়োজন নেই। দু’ওভার হাতে রেখে ৫ উইকেটে হাসতে হাসতে ফাইনাল জিতে নেন বিরাটরা। ভেঙ্কটেশ আইয়ার ও কোহলির শক্তিশালী জুটিতে ৪.৩ ওভারে পৌঁছে যায় ৬২ রান। ১৬ বোলের ঝকঝকে ৩২ রান করে ফিরে যান ভেঙ্কটেশ। মহম্মদ সিরাজের বলের জন্য কাগিসো রাবাডার হাতে ধরা পড়েন তিনি।

তারপর দেবদত্ত পাড়িক্কল (১), অধিনায়ক পাতীদার (১৫) এবং ক্রুনাল পাণ্ডিয়া (১) এসে ফিরে যান। কিন্তু এতে কিছু যায় আসে না। কারণ ক্রিজে কার্যত বিঁধেছিলেন কোহলি। তার সঙ্গে যোগ দিতে এসে ছয়ে নেমে টিম ডেভিড (১৭ বল ২৪) এবং জীতেশ শর্মা (অপরাজিত ১৪ বল ১১) নিজেদের অবদান রাখেন। আর কোহলি ৪২ বল খেলে ৭৫ রান অর্জন করেন (৯ চার ও ৩ ছয়) দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন।

কোহলি চার-ছক্কা মারা দিয়ে খেলা শেষ করে দেখিয়ে দেন যে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যেমন তার আইকন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নামেই থাকছে, তেমনই আইপিএলও তার নামেই রয়ে যাবে।