চন্দ্রগঞ্জেই সদর দপ্তরের দাবি

চন্দ্রগঞ্জেই সদর দপ্তরের দাবি

মোঃ হাবিবুর রহমান মোল্লা, চন্দ্রগঞ্জ  (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ

নবনির্মিত চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার সদর দপ্তর কোথায় প্রতিষ্ঠা হবে—এ বিষয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ এবং ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। যদি চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বাইরে সদর দপ্তর স্থানান্তরের কোনও প্রস্তাব করা হয়, তাহলে তা চন্দ্রগঞ্জবাসীকে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ করবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের বহু উপজেলার সদর দপ্তর জ্যামিতিক দিক থেকে কেন্দ্রে অবস্থিত নয়। প্রকৃতপক্ষে, ঐ এলাকায় কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক সুবিধা, নাগরিক সেবা প্রাপ্তির সুবিধা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতিবেশী তিন জেলার মানচিত্র এবং প্রশাসনিক কাঠামোর পর্যবেক্ষণেও এই সত্যতা দৃঢ় হয়। ফলে চন্দ্রগঞ্জের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

চন্দ্রগঞ্জকে উপজেলার মর্যাদা দেওয়ার পেছনে রয়েছে এই এলাকার নামকরা ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময়ের প্রচেষ্টা, শ্রম এবং অধ্যবসায়। চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের বিভিন্ন স্তরের প্রচেষ্টা আজকের কাঙ্ক্ষিত উপজেলা গঠনে ভূমিকা রেখেছে।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা প্রতিষ্ঠার শেষ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় যার আবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ হয়েছে, তিনি গোটা জেলায় পরিচিত এবং চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু যা ছিল সেই ইউনিয়ন বাদ দিয়ে অন্য কোথাও সদর দপ্তর স্থাপনের চিন্তা অত্যন্ত অসুবিধার।

যার কারণে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে সদর দপ্তর স্থাপন যৌক্তিক:
ঐতিহাসিক এবং বানিজ্যিক গুরুত্ব: চন্দ্রগঞ্জ অঞ্চল একটি দীর্ঘকালীন ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
যোগাযোগের সুবিধা: আঞ্চলিক যোগাযোগের দিক থেকে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন সর্বাধিক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
জনসংখ্যার আকাঙক্ষা: আন্দোলণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন হওয়ার কারণে, এখানেই সদর দপ্তরের জন্য জনসাধারণের বড় দাবি বিদ্যমান।

চন্দ্রগঞ্জের স্থানীয় জনগণের মতামত হলো, “এখন কিভাবে বা কোন উদ্দেশ্যে উপজেলা সদর দপ্তর চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের বাইরের দিকে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে—তা আমাদের বোধগম্য নয়। যদি প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনও প্রাসঙ্গিক উত্তর দিতে অক্ষম হয়, তবে তা স্থানীয় জনগণের অনুভূতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।”

বিকল্প কোনও স্থানে সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠা করলে তা শুধু প্রশাসনিক জটিলতা বাড়াবে না, বরং চন্দ্রগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের অধিকারকে লুপ্ত করার সমান।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার উন্নয়ন এবং দীর্ঘ সময়ের আন্দোলনের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে সদর দপ্তর স্থাপন করা সঠিক হবে। স্থানীয় জনগণের দাবি হলো, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন কোনো চাপের শিকার না হন এবং ঐতিহাসিক দিক এবং উপযোগিতা বিবেচনা করে চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নে স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।