মিরাজ হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মোটরবাইক না দেওয়ার কারণে ২২ বছর বয়সী ফিমা আক্তারকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বাড়ি ত্যাগ করে পালানোর চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে (২৯ মে) উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের মিঠু হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফিমা আক্তার বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে তাঁর বিয়ে হয় মো. সজিবের সঙ্গে। তাদের একটি দেড় বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের মা তাছনুর বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের কিছু দিনের মধ্যেই ফিমার স্বামী মোটরসাইকেলের জন্য দাবি করতে শুরু করে। পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সেই দাবি পূরণ করা সম্ভব না হওয়ার ফলে ফিমা নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঈদের তিন দিন আগে মোটরবাইক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এর ফলস্বরূপ বৃহস্পতিবার রাতে ফিমার হত্যাকাণ্ড ঘটে বলেই তাদের আশঙ্কা।
নিহতের ভাই মো. শিপন জানিয়েছেন, হত্যার পর ফিমার মৃতদেহ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে স্বামী সজিব ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, “ঈদের দিন এশার নামাজের পর ফিমা তার মা ও বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিল। সে তখন সুস্থ ছিল। পরে রাত ৪টার সময় ফোন করে জানান হয়, ফিমা অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে জানানো হয়, সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সকালে ঘটনাস্থলে এসে দেখি ঘরের মেঝেতে আমার বোনের মৃতদেহ থাকা অবস্থায় ঘরে কেউ নেই।”
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি পরিষেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে শুক্রবার (৩০ মে) সকালে দৌলতখান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরিত হয়।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরে কাউকে পাওয়া যায়নি। নিহতের মৃতদেহ মেঝেতে ছিল এবং তার নাক থেকে রক্ত পড়ছিল। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবার অভিযুক্তদের দ্রুর গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে।
