আহমদ হুসাইন লস্কর, হাইলাকান্দি, আসাম:
দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেমন হচ্ছে, তেমনিভাবে আসামের হাইলাকান্দি জেলায়ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে অত্যন্ত উৎসাহের সাথে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে।
এই দিন স্থানীয় প্রধান ঈদগাহ, যা হাইলাকান্দি টাউন হাইস্কুলের পাশে অবস্থিত, সেখানে সকাল ৭:৩০ মিনিটে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের নেতৃত্ব দেন হাইলাকান্দি কাছারি মসজিদের ইমাম হাফিজ তৈয়ীবুর রহমান লস্কর।
পাশাপাশি, হাইলাকান্দি কাটলিছড়া বাস্টেন্ড ঈদগাহে নামাজ সকাল আটটায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মওলানা সারিমুল হক লস্কর নামাজ পরিচালনা করেন। নামাজের আগে ঈদুল আজহার তাৎপর্য ও ইতিহাস নিয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মুসলিম সম্প্রদায়ের এই দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হলো বিধাতার প্রতি নিখাঁদ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের একটি সুমহান নিদর্শন। ঈদুল আজহা উদযাপনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো নামাজ অনুষ্ঠিত করা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিন শুরুতেই নতুন পোশাক পরে ঈদগাহ বা মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত ঈদুল আজহার ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন। এরপর, দেশের কল্যাণ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ শেষ হলে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সাধ্য অনুযায়ী ছাগল, ভেড়া বা উটসহ বিভিন্ন প্রাণী কোরবানি দেওয়া হয়। এই প্রথা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণের উদ্দেশ্যে পালিত হয়। গোশত বিতরণ: কোরবানির গোশত নিয়ম অনুসারে তিনটি অংশে ভাগ করা হয়—একটি অংশ নিজেদের জন্য, এক অংশ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য এবং অপর অংশ গরিব ও হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
কোরবানি ও গোশত বিতরণের পাশাপাশি আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে এবং একে অপরকে আলিঙ্গন করে ঈদের শুভেচ্ছা শ্রদ্ধা জানানো হয়। উদযাপনটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ার শিক্ষা দেয়।
এই দিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে হাইলাকান্দির শহরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিভিন্ন মসজিদে সকালেই ঈদের নামাজ পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
