স্টাফ রিপোর্টার:
কিশোরগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও দুরবিন নিউজের জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন রাজ। এই ঘটনায় জেলার সাংবাদিক সম্প্রদায়, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যার পরে কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন স্থানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন রাজ দায়িত্ব পালন শেষে রেলস্টেশন এলাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এরপর তিনি স্টেশনের নিচে দুলাল টেইলার্সের পাশে পৌঁছালে পূর্বনির্ধারিতভাবে এ ব্যবস্থা নেয়া একটি সন্ত্রাসীর দল তার উপর আকস্মিকভাবে হামলা করে।
আক্রমণকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সেখানেই পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ফরহাদ হোসেন রাজ বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত হত্যার চেষ্টা। তিনি জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশের জন্য একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তার প্রতি অসন্তুষ্ট ছিল। এই কারণে তার ওপর হামলা হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে। পুলিশের অভিযানে “জুম্মন” নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার সাথে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য বিভিন্ন দিক গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সৎ সাক্ষাৎকার এবং অভিযুক্তদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আরও কিছু লোককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদিকে আহত সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ এবং সত্য প্রকাশের মধ্যে বাধা দেওয়ার জন্য এইরকম হামলার ঘটনা ঘটছে। তারা সকল হামলাকারীকে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে ধরার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
ঘটনার পর থেকে কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, একজন কর্মরত সাংবাদিকের উপর প্রকাশ্যে হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা না হলে বড় আকারের আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদসহ অন্যান্য সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরার কারণে সাংবাদিকরা বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। এজন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরো কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা পালন করা উচিত।
সচেতন মহল মনে করেন, কিশোরগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একজন সাংবাদিকের ওপর যেভাবে এই নৃশংস হামলা হয়েছে, তা আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল পরিকল্পনাকারীসহ হামলার সাথে যুক্ত সকলকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
