নাসিরনগরে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে

নাসিরনগরে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে

মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হাট-বাজারে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুরবানীর পশুর জন্য হাটের গোছানো পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যদিও বৃষ্টি উপেক্ষা করা হয়েছে। কিছুদিন ধরে অস্থায়ী বৃষ্টি ও খারাপ আবহাওয়া থাকলেও উপজেলায় বিভিন্ন পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের কারণে দেশজুড়ে নাসিরনগরেও কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ব্যবসা বাণিজ্য জোরালো হচ্ছে। ঈদ নিকটে আসার সাথে ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সরেজমিনে দেখা যায়- ফান্দাউক, চাতলপাড়, নুরপুর, পুর্বভাগ, গুনিয়াউক, হরিণবেড়, ভলাকুট, কুলিকুন্ডা, চাপড়তলা, নাসিরনগর সদরসহ বেশ কিছু পশুর হাটে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি রয়েছে। পশুর ক্রমবর্ধমান বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে দেশি জাতের মাঝারি আকারের গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি। অনেকে এখন থেকেই কোরবানির পশু কেনার চেষ্টা করছেন, কারণ তারা মনে করছেন শেষ মুহূর্তে দাম অনেক বাড়তে পারে। তবে এবারের গরুর দাম মোটামুটি সহনীয়।

স্থানীয় খামারিরা জানান- “ভারতীয় গরু সম্মন্ধে নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন। কিন্তু গরুর খাবারের দাম বৃদ্ধি, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বাড়ার কারণে গরুর দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।” তারা জানান- আমরা পশুগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে তুলতে নিজেদের জমিতে উৎপাদিত ঘাস, বিচালি, খৈল, ভুসি এবং ভুট্টা ব্যবহার করেছি। কোনো কৃত্রিম কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়নি। একজন বিক্রেতা মন্তব্য করেন- “আবহাওয়ার সমস্যা ঠিকই রয়েছে, তবে ব্যবসা মোটামুটি ভালো হচ্ছে। আজ সকাল থেকে অনেক গরু বিক্রি হয়েছে। আশা করি ঈদের আগে কিছুদিন আরও বিক্রি ভালো হবে।”

নাসিরনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সামিউল বাছির জানান- “বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও নাসিরনগরের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা অনেক ভালো আছে। এখানকার স্থায়ী ও মৌসুমি খামারিদের পাশাপাশি অনেকে বাড়িতে কোরবানির জন্য পশু পালন করেছেন। এবার চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশুর পরিমাণ বেশী হওয়ায় কোনো অভাবের আশঙ্কা নেই।”