খুলনা মেডিকেল কলেজে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন চুরি: ১২ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার, কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

খুলনা মেডিকেল কলেজে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন চুরি: ১২ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার, কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

মো: আল-মাহফুজ শাওন:

খুলনায় শিক্ষকদের হাজিরা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত ডিজিটাল ফেস ডিটেকশন হাজিরা মেশিন চুরির ঘটনা ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

তবে মাত্র ১২ ঘণ্টা পর পুলিশ চুরি হওয়া মেশিনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কলেজ প্রশাসন এমএলএসএস কাউসারকে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে যে, রোববার সন্ধ্যায় দায়িত্ব পালনের জন্য নিরাপত্তা কর্মীরা কলেজের নিচতলায় গিয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিনটি দেখতে না পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানায়। পরবর্তীতে সোমবার (১৮ মে) সকালে অধ্যক্ষের অফিসে কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে এমএলএসএস কাউসার ওই ঘরে প্রবেশ করে এবং ৩টা ৯ মিনিটে মেশিন হাতে নিয়ে বের হয়ে যায়। এই তথ্য প্রকাশ পেতেই কলেজজুড়ে বিস্তৃত আলোচনার সৃষ্টি হয়ে যায়।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে তদন্ত শুরু করতে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিস্তৃত জিজ্ঞাসাবাদে কাউসার ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে এবং চুরি হওয়া মেশিনটি ফেরত দেয় বলে জানা গেছে।

এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে একটি শিক্ষকের এবং এক বিভাগীয় প্রধানের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি আরও গুরুত্ব পায়। এই বিষয়টি তদন্তের জন্য কলেজ প্রশাসন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আমানুল হাসানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে অভিযুক্ত এমএলএসএস কাউসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনার ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম মাসুদ বলেন, “আমরা এই ঘটনার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”