বাড়ছে শিক্ষিত বেকারত্ব, বাড়ছে উদ্বেগ

বাড়ছে শিক্ষিত বেকারত্ব, বাড়ছে উদ্বেগ

আহমদ হুসাইন লস্কর, হাইলাকান্দি, আসাম:

দেশে শিক্ষিত বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে এই সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

UNESCO-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, শিক্ষা দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম প্রধান উপায়। তবে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা পূরণে কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সাধারণত একজন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণীর প্রত্যাশা থাকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাওয়া। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে উদ্যোক্তা হতে গেলেও নানা জটিলতা ও সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়।

দেশে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ কাজের অভাবে হতাশায় ভুগছেন। কেউ কেউ বিদেশে কাজের সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ পথে পাড়ি দিচ্ছেন, আবার অনেকে বৈধভাবে গিয়েও নানা প্রতিকূলতায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

একদিকে যখন দেশীয় তরুণরা কাজ পাচ্ছেন না, তখন বেসরকারি খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী উচ্চ বেতনে নিয়োগের ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। এতে স্থানীয় মানবসম্পদ উন্নয়নের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো গেলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং বেকারত্বের চাপ কমবে। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব সমাজে নেতিবাচকভাবে পড়তে পারে।

কর্মসংস্থানের অভাবে কিছু তরুণ অপরাধ বা নেশাজনিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

বিশ্লেষকদের মতে, যুবসমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে পারলে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও নিরক্ষরতা দূর করা সম্ভব।

বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাত নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। অনলাইনভিত্তিক কাজ, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক তরুণ সফল হচ্ছেন। তাই আত্মকর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এখন সময়ের দাবি।