মো: আল-মাহফুজ শাওন
ভোলা–বরিশাল–খুলনা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প আবারও অগ্রাধিকার পাচ্ছে। রুট পরিবর্তন করে নতুন পরিকল্পনায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোলার গ্যাস সম্পদকে ঘিরে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে প্রকল্পটি নিয়ে নানা পরিকল্পনা থাকলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম ধাপে ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। পরবর্তীতে গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত থাকলে বরিশাল–ঢাকা অংশ বাস্তবায়নের কথা ভাবা হবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, ভোলা গ্যাস ফিল্ড নিয়ে সাম্প্রতিক বৈঠকে শিল্পায়ন ও পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রয়োজনে এলএনজি আকারে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে এবং এতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণে ব্যয় হতে পারে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা। তবে গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত না হলে এই বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অতীতে ২০০৪ সালে একই ধরনের একটি প্রকল্প এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের গ্যারান্টি সংক্রান্ত জটিলতায় বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে ভোলায় উল্লেখযোগ্য গ্যাস মজুতের সম্ভাবনা দেখা গেছে। তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি থেকে দৈনিক প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব।
তবে স্থানীয় চাহিদা কম এবং পাইপলাইন না থাকায় বর্তমানে মাত্র ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে সিএনজি ও এলএনজি আকারে পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন সময়োপযোগী এবং অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
