ইরানে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ও ঐতিহাসিক স্থাপনা, উদ্বেগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র

ইরানে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ও ঐতিহাসিক স্থাপনা, উদ্বেগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র

ইরানে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল ও ঐতিহাসিক স্থাপনা, উদ্বেগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র

ইরানের চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটির স্বাস্থ্যখাত মারাত্মক চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রাণহানির সংখ্যাও বেড়েই চলেছে। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।

এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে কখনোই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ইরানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসাসেবা চালু রাখা কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সংঘাতের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যখাতেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জানজান শহরের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড হোসাইনিয়া মসজিদে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ভবনের গম্বুজ ও মিনারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ২৯টি ইউনেস্কো স্বীকৃত ঐতিহ্যের মধ্যে অন্তত চারটি ইতোমধ্যে ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে তেহরানের গোলেস্তান প্যালেস, ইসফাহানের চেহেল সোতুন প্যালেস, মাসজেদ-ই জামে মসজিদ এবং খোররামাবাদ অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নস্থল উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির অস্থিরতা এবং আকাশপথে চলাচল সীমিত হওয়ায় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ইরানে পৌঁছাতে পারছে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, যদি পারমাণবিক স্থাপনাগুলো এই সংঘাতে লক্ষ্যবস্তু হয়, তাহলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *