বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কিশোরকে রাতভর অবৈধভাবে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের সময় ওই কিশোরকে উলঙ্গ করে মিউজিকের তালে জোরপূর্বক নাচানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা শেরপুর থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার হামছায়াপুর এলাকার বাসিন্দা মো. জহুরুল ইসলামের ছেলে মাহমুদুল হাসান স্বপ্নীল স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে নিয়মিত খেলাধুলা করত। প্রায় দুই মাস আগে খন্দকারটোলা গ্রামের তাকওয়া মসজিদের সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার সময় স্বপ্নীলের হাতে থাকা একটি র্যাকেট ভেঙে যায়। র্যাকেটটি অভিযুক্তদের একজনের ছিল বলে জানা গেছে।
পরে অভিযুক্তরা স্বপ্নীলের বাড়িতে গিয়ে নতুন র্যাকেট কিনে দেওয়ার দাবি জানায়। স্বপ্নীলের বাবা দুইদিন পর নতুন র্যাকেট কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তারা সেটি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৫ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে শেরপুর পৌরসভার আঁখি মনি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে কৌশলে স্বপ্নীলকে ডেকে নেয় অভিযুক্তরা। পরে তাকে শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়।
এজাহারে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে—
মো. আব্দুল্লাহ আল সাদ, মো. মোত্তালিব আলভী, মো. আহনাফ শাহরিয়ার জাহেন, মো. সিয়াম, মো. সুফিয়ান শাহরি ও মো. সাদিকুর রহমান অয়ন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৬ মার্চ রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কিশোরটিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে মিউজিকের তালে জোরপূর্বক নাচতে বাধ্য করা হয়। দীর্ঘ সময় নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে আবারও তাকে মারধর করা হয়।
এছাড়া তার মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়া হয় এবং ধারালো বস্তু দিয়ে মাথার সামনের অংশে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
রাতভর ছেলে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে অভিযুক্তদের দুজন স্বপ্নীলের বাবাকে জানায়, তাকওয়া মসজিদে চুরির অভিযোগে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে তার বাবা-মা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে ৬ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলে।
এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনার বিষয়ে অবগত রয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেরপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
