মোহাম্মদ হোসাইনঃ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত এবং অনিয়মের সঠিক তদন্তের দাবিতে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) পালংখালী বাজার এলাকায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তাদের জমা করা টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
গ্রাহকদের অভিযোগ, পালংখালী বাজারের ইয়াকুব-মোস্তফা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় দীর্ঘদিন ধরে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছিল। স্থানীয়দের সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের কারণে অনেক গ্রাহক সেখানে নিয়মিত টাকা জমা করতেন এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন করতেন।
সম্প্রতি একাধিক গ্রাহক তাদের জমা করা টাকা তুলতে গিয়ে হিসাবের গরমিল লক্ষ্য করেন। পরে হিসাব পর্যালোচনা করে অভিযোগ ওঠে, ২১ জন গ্রাহকের হিসাবে থাকা মোট ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। কিছু গ্রাহক দাবি করেন তাদের খাতায় কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা জমা ছিল, তবে টাকা উত্তোলনে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এই ঘটনায় পালংখালী বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার ফয়সাল আরিফ উখিয়া থানায় একটি মামলা/এজাহার করেছেন। এতে এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন, ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলাম, ম্যানেজার হাবিব উল্লাহ ফরহাদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের পর উখিয়া থানা পুলিশ এজেন্ট মালিক হাকিম উদ্দিন ও ক্যাশিয়ার তাহসিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। কিন্তু অভিযোগে উল্লিখিত অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয়গুলি এখনও তদন্তাধীন; অভিযুক্ত অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
এদিকে গ্রাহকদের দাবি, শুধু ২১ জন নয়, ওই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে আরও অনেক গ্রাহকের টাকা আটকে থাকতে পারে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ব্যবসার টাকা ফেরত না পাওয়ায় তারা কঠিন আর্থিক সংকটে রয়েছেন। দ্রুত তাদের আমানতের টাকা ফেরত না দিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা রক্ষায় বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হোক। তাদের কমানোর সাধনা করা আমানতের টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, ১৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে পালংখালীতে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেট থেকে ২১ গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৪৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবং দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

