সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ
রায়নগর মিতালীর ১১১ নম্বর বাসায় নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড—ঘটনাস্থলে এসএমপি কমিশনার, তদন্তে একাধিক সংস্থা। সিলেট মহানগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় স্বামী, স্ত্রী ও এক গৃহপরিচারিকাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতরা হলেন—বাসার মালিক এমএ সাত্তার মিয়া (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (১৫)। তাঁরা ওই চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম (বিপিএম)। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় একজন ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে জানান, মিতালী ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটের বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত বাইরে গড়িয়ে পড়ছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং তিনিও সেখানে যান।
তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে দেখতে পায়, বাসার মালিক এমএ সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারা হয়েছে।
কমিশনার আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইসহ একাধিক তদন্তকারী সংস্থা কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি এসএমপির একটি বিশেষ তদন্ত দল তাৎক্ষণিকভাবে গঠন করা হয়েছে। দলটি ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
হত্যার সম্ভবত কারণ সম্পর্কে এসএমপি কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে দুটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা ডাকাতির জন্য বাসায় ঢুকে তিনজনকে হত্যা করেছে কি না, অথবা জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।
বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ার খবর
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ওই বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। পরে বাসার বন্ধ দরজার ভেতর থেকে রক্ত বাইরে গড়িয়ে পড়তে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তিনজনের লাশ দেখতে পায়।
পুলিশ জানায়, চারতলা ভবনটির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এমএ সাত্তার মিয়া, তাঁর স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা থাকতেন। ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করেন।
নিহত কিশোরী তাহমিনা জল্লারপাড়ের বাসিন্দা
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত গৃহপরিচারিকা তাহমিনা মহানগরের জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি মিতালী আবাসিক এলাকার ওই বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।
আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাত্তার
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত এমএ সাত্তার মিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি।
ঘটনার পর মিতালী আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং ঘটনার পেছনের রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
এদিকে, বুধবার সকালে তিনজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসএমপির মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম।

