সৈয়দ আমান উল্লাহ্, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পুরান পুল ও ভার্তখলা এলাকায় মাদক ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যার পর মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ভার্তখলা এলাকার যুবসমাজ সুইপার পট্টিতে অবস্থান নেয়। এসময় তারা এলাকায় মাদক ছড়িয়ে পড়া বন্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
প্রতিবাদকারীরা বলেন, মাদক একটি একক ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে যুবকদের মাদক সঙ্কট থেকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের দাবী, পৃথকভাবে অভিযান চালানোর পাশাপাশি মাদক উৎপাদনের উৎস, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের কর্তৃত্বে আনতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয়দের মতে, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে মাদক কেনাবেচা চলছে। বিভিন্ন সময় অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগে কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রহিমা, তার ভাই মিজান এবং রহিমার স্বামী মজনুর নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত বলে তারা জানান। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযান ও মামলা হওয়ার পরও যদি একই এলাকায় মাদক সরবরাহের অভিযোগ অব্যাহত থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না?
সুইপার পট্টিতে যুবসমাজের অবস্থান
শুক্রবার সন্ধ্যায় ভার্তখলা এলাকার যুবসমাজ সুইপার পট্টিতে অবস্থান নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান প্রকাশ করে। তারা বলেন, মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের কাজ নয়; এ জন্য স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও যুবকদের একত্রে কাজ করতে হবে।
প্রতিবাদকারীরা মাদকবিরোধী অভিযানকে জোরদার করতে, নিয়মিত নজরদারি রাখতে এবং মাদক সরবরাহের মূল উৎস চিহ্নিত করতে বলছেন।
কয়েকজনকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রশ্ন
স্থানীয়দের বক্তব্যে সুইপার কলোনির কয়েকজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীর নামও উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে নাজু ও রহিমার বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। সেইসাথে নান্টু লাল ও মনি লাল নামে দুজনের গ্রেপ্তার হওয়ার কথাও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে।
তবে কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগে মামলা হয়েছে, কারা গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত অবস্থান কী—এসব বিষয়ে স্থানীয় থানা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তাই যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযানে বাধার অভিযোগ
কিছু স্থানীয়দের দাবি, অতীতে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এমনকি পুলিশের সদস্যদের অবরুদ্ধ করার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং শুক্রবারের ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে।
‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের দাবি
মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, কেবল খুচরা বিক্রেতা বা বহনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থের লেনদেন এবং পেছনের ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, “আমরা মাদকমুক্ত এলাকা চাই। কারো বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই—সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
শাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পুরান পুল, ভার্তখলা ও সুইপার পট্টি এলাকার বাসিন্দারা দক্ষিণ সুরমা থানার ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
তাদের আশা, শুক্রবার সন্ধ্যার পরে প্রতিবাদসহ এলাকায় মাদক সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলো রয়েছে, সেগুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে নির্বুদ্ধিতাকে হয়রানির শিকার না হতে দেওয়ার এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইন থেকে পালানো প্রতিরোধ করার বিষয়েও নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও যুবসমাজকে একত্রে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।
পুরান পুল–ভার্তখলা এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যার পরে যুবসমাজের এই অবস্থান ও প্রতিবাদ মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে। এখন স্থানীয়দের আশা—অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

