মোঃ সুজন আহম্মেদ, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার উত্তর মেন্দা ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পরিবারের খোলা তালাকের আপোষ মীমাংসা পত্রকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আপোষনামার শর্ত অনুযায়ী দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের ভিন্ন দাবির কারণে বিষয়টি এলাকায় আলোচনা শুরু করেছে।
স্ট্যাম্পে সম্পাদিত আপোষ মীমাংসা পত্র অনুযায়ী, প্রথম পক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন (পিতা: মো. মোবারক হোসেন), গ্রাম- মাস্টারপাড়া, ডাকঘর ও থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা- পাবনা এবং দ্বিতীয় পক্ষ মোছা. গোলাপী খাতুন (পিতা: মো. সিরাজুল ইসলাম), গ্রাম- উত্তর মেলা, ডাকঘর ও থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা- পাবনার মধ্যে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে এলাকাবাসী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকে দেনমোহরসহ সকল হিসাব নিষ্পত্তির জন্য আপোষ মীমাংসা সম্পন্ন হয়।
আপোষনামা অনুযায়ী, কাবিনের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ টাকা। তবে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকে সম্মতি দেয় দ্বিতীয় পক্ষ। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ হয় এবং অবশিষ্ট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থ পাওয়ার পর দ্বিতীয় পক্ষ ভবিষ্যতে দেনমোহর বা এ-সংক্রান্ত কোনো দাবি করবেন না বলেও আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া আপোষনামায় বলা হয়েছে, কোনো পক্ষ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে এবং শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে আপোষনামার কার্যকারিতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে।
আরোও পড়ুন
| আগস্টের গণমিছিল ঘিরে টেকনাফে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রস্তুতি বৈঠক |
এ বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমাকে ওই সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই আমি স্ত্রীকে ছাড়তে রাজি হয়েছি। আমি এখন আমার স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে চাই।”
অন্যদিকে মোছা. গোলাপী খাতুন বলেন, “আমি আমার স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবো না। তিনি আমাকে জমির প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেছিলেন। আমি আমার আগে সংসার থেকে টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে এসেছিলাম, সেগুলোও তিনি ফেরত দেননি। এছাড়া আমার জন্য ৫ শতাংশ জমি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সেটাও দেননি। তাই আমি তার সঙ্গে আর সংসার করতে চাচ্ছি না।”
সালিশ বৈঠকে উপস্থিত সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন— ইমরান হোসেন (প্রথম পক্ষের ভাই), ভাঙ্গুড়া পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. পান্না হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. আলামিন এবং মোছা. মিতা খাতুন (দ্বিতীয় পক্ষের খালা)।
বর্তমানে আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন এবং উভয় পক্ষের দাবি নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে। অভিযোগগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

